মঙ্গলবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মোহনগঞ্জে গভীর নলকূপ স্থাপন নিয়ে সংঘর্ষ, দা-বল্লমের আঘাতে গুরুতর আহত ২

নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গভীর নলকূপ স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দা, বল্লম ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহতদের উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আহতরা হলেন মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামের মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে নুরুল আমিন (৫০) এবং একই গ্রামের মৃত মাইজ উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান (৪০)।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পাবই–মোবারকপুর সরকারি সড়কের ওপর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে বলা হয়, মোবারকপুর কৃষক সমবায় সমিতির আওতাধীন একটি গভীর নলকূপ ১৯৯১ সালে বিআরডিবির মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ২০২৪ সাল থেকে নলকূপটি অচল হয়ে পড়ে। পরে সমিতির রেজুলেশনের মাধ্যমে নলকূপ পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় নিজস্ব অর্থায়নে নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে একই গ্রামের মতিউর, জসিম, সুরুজ ও বাবুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি নলকূপ স্থাপনের বিরোধিতা করে অনুমতি বাতিলের দাবিতে আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার দিন বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় মাতব্বরদের উদ্যোগে সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আবুল হোসেন, জসিমসহ তাদের সহযোগীরা নুরুল আমিন ও আসাদুজ্জামানের ওপর হামলা চালায়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলাকারী জসিম উদ্দিন আবুল হোসেন শান্ত সহ বেশ কয়েকজন ফের আক্রমণ চালিয়ে নূরুল আমিনের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেয় ।

এ ঘটনায় আহত নুরুল আমিন বাদী হয়ে আবুল হোসেন, মতি মিয়া, জসিম উদ্দিন ফেরদৌস ও কেনু মিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি। মতি মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *