শুক্রবার, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় নিহত অন্তত ৪০

যায়যায়কাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলায় সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

শনিবার এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হননি। তবে কিছু সেনা আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

পরে একই দিন মার-আ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করতে এগিয়ে যাওয়া মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো গুলির মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, একটি হেলিকপ্টারে আঘাত লাগলেও সেটি ‘উড়তে সক্ষম ছিল’ এবং সব মার্কিন উড়োজাহাজ নিরাপদে ফিরে এসেছে।

তবে এই অভিযানে প্রায় অর্ধডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা।

হামলার পরপরই কারাকাস বিমানবন্দরের ঠিক পশ্চিমে অবস্থিত নিম্নআয়ের উপকূলীয় এলাকা কাতিয়া লা মার-এ ভেনেজুয়েলার এক বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী শহরটিতে অভিযান চালানোর সময় তিনতলা একটি বেসামরিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিমান হামলা চালায়, এতে ভবনের বাইরের একটি দেয়াল ধসে পড়ে।

এতে ৮০ বছর বয়সী রোসা গঞ্জালেস নিহত হন বলে জানিয়েছে পরিবার। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বিকেলে ঘটনাস্থলে একজন সরকারি তদন্তকারী উপস্থিত হন। তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নেন এবং হামলায় ব্যবহৃত প্রজেক্টাইলের অংশ সংগ্রহ করেন।

রোসা গঞ্জালেসের ভাতিজা উইলমান গঞ্জালেস জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে হামলার শব্দ শুনে তিনি মাটিতে ঝুঁকে পড়েন, তবে অল্পের জন্য একটি চোখ হারানো থেকে বেঁচে যান। তার মুখের পাশে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টা পরও উইলমান গঞ্জালেসকে অবসন্ন দেখাচ্ছিল। মার্কিন বাহিনী কোথায় কোথায় হামলা করেছে, সাংবাদিকদের তা দেখাচ্ছিলেন তিনি।

বাড়ি হারানোর পর এখন কোথায় যাবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি শুধু বলেন, ‘জানি না’।

খুব একটা কথা না বলে নিচু হয়ে পড়ে থাকা জিনিসপত্রের ভেতর থেকে যা কিছু উদ্ধার করা যায়, তা খুঁজতে থাকেন। এরপর একটি পুরোনো ছাতা ও একটি ড্রয়ারের সেট সঙ্গে নেন তিনি।

হামলার ফলে একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরের অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার নায়ক সিমন বলিভারের একটি প্রতিকৃতি দেখা যায়, যা শ্রাপনেলের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বলে মনে হচ্ছিল।

স্থানীয় হোর্হে নামে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলেন, বিমান হামলায় তিনি সবকিছু হারিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে সেখানে বহু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, অন্যরা নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টের অক্ষত অংশে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তারা বেশিরভাগই হতবিহ্বল ছিলেন।

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু বাসিন্দা প্রার্থনা করছিলেন। অন্যরা ছিলেন বেজায় ক্ষুব্ধ।

হাভিয়ের নামের এক ব্যক্তি বলেন, ভেনেজুয়েলায় হামলার পেছনে লোভই দায়ী। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত সেই অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত, যেখানে বলা হয়েছিল—মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া হবে।

তার মতো মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাসিন্দারা জানান, বিমান হামলার পর চার ব্যক্তি রোসা গঞ্জালেসকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তাকে একটি মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

আরও এক নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে বাসিন্দাদের জানানো হয়, তিনি বেঁচে আছেন, তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ