মঙ্গলবার, ২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সচেতন ও সংগঠিত জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ

oppo_2

আবু জিহাদ, আমতলী (বরগুনা): সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের প্রকৃত রক্ষাকবচ-এমন অভিমত ব্যক্ত করে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল তিনটায় বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ কার্যক্রম: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ-নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ জিয়াউল করিম।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুজন বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি প্রফেসর মোতালেব হোসেন হাওলাদার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বরিশালের সভাপতি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুজন বরিশাল আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহের আফরোজ মিতা, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজন বরগুনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের।

বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়েও তা পূরণ হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশ কর্তৃত্ববাদী ও বৈষম্যমূলক শাসনের মধ্যে ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই শাসনের অবসান ঘটলেও, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র নিশ্চিত করা জরুরি।

বৈঠকে বলা হয়, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের সেই ক্ষমতা কার্যকর হয় সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে। অথচ অতীতের কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুষ্ঠু নির্বাচনের মানদণ্ড পূরণ হয়নি, ফলে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আলোচনায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটার হওয়ার যোগ্য সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, প্রার্থী হতে আগ্রহীদের সমান সুযোগ দেওয়া, বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প প্রার্থী থাকা, নির্বিঘ্ন ও স্বাধীন ভোট প্রদান, স্বচ্ছ ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কারসাজিমুক্ত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দল-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবিও ওঠে।

গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, কেবল নির্বাচন নয়-রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং নাগরিক সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ অপরিহার্য। রাজনৈতিক দলগুলোকে আর্থিক স্বচ্ছতা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি এবং তৃণমূলভিত্তিক গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকে আরও বলা হয়, সুজন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে কাজ করে আসছে। ‘জাতীয় সনদ’, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে নাগরিকদের ভিন্নমত থাকলেও, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হয়-এটাই নাগরিক সমাজের প্রধান প্রত্যাশা।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সুজন বরগুনা জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা,মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা, মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম মন্টু, মো. বাকি বিল্লাহ, মো. শফিকুল ইসলাম খোকন, সুজন আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মো: জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জিহাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তা রানী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সচেতন ও সংগঠিত নাগরিক সমাজ গড়ে তুলতে পারলেই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে এবং রাষ্ট্র সুশাসনের পথে অগ্রসর হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ