
আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধ ও পতিত জমিতে পানিফল চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছে অনেক কৃষকের। বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা যেসব জমিতে প্রচলিত ফসল আবাদ করা কঠিন, সেসব জমিতে পানিফল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। কম খরচে তুলনামূলক বেশি আয় হওয়ায় জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে এ ফলের আবাদ।
উৎপাদিত পানিফল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে চলতি মৌসুমে জেলাতে ৬৫৫ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমে চাষ হয়ে ছিল ৪০৫ হেক্টর জমিতে । সে হিসাবে এক বছরে আবাদ বেড়েছে ২৫০ হেক্টর।
পানিফল চাষি শাহবুদ্দিন ও ইয়াকুব্বর আলী জানান, পানিফলের বাজারে চাহিদা থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। উৎপাদিত ফলের একটি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। বাকি ফল ট্রাকে করে ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজার ও মৌসুমভেদে পানিফলের দাম ওঠানামা করে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পানিফল ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভরা মৌসুমে কোনো কোনো স্থানে দাম কমে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় নেমে আসে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা।
সদর উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তামান্না তাছনীম জানান, জমির উপযোগিতা যাচাই, উন্নত মানের বীজ ও চারা সরবরাহ, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা গেলে সাতক্ষীরায় পানিফল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে জলাবদ্ধ ও পতিত জমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার জানান, অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপযোগী জমিতে পানিফল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে পতিত থাকা জমি, জলাশয়, বিল ও পরিত্যক্ত পুকুরে মূলত পানিফল চাষ করা হয়। এ উদ্ভিদের কাণ্ড পানিতে ডুবে থাকলেও পাতা, ফুল ও ফল পানির ওপর ভাসে। বীজের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। পানিফলের বীজ দীর্ঘদিন অঙ্কুরোদ্গমের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে বলেও জানান তিনি।











