
দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ খান নিজেকে একজন ভুক্তভোগী অথচ সচেতন নাগরিক হিসেবে দাবি করে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
তার অভিযোগ—পরিকল্পিতভাবে সংসার ভেঙে দেওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সর্বশেষ দুই শিশু কন্যা সন্তানকে জোরপূর্বক আটকে রেখে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুল মজিদ খানের প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পিতামাতার বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ওই সংসারে তার চার পুত্র সন্তান রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২০১৮ সালে তিনি আশা আক্তারকে বিবাহ করেন। প্রায় ৭ বছর ৬ মাস দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, শ্বশুর লাইসুর রহমান, শাশুড়ি লিপি আক্তার, দুলাভাই দেলোয়ার হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কুপরামর্শে আশা আক্তার মোট আটবার সংসার ত্যাগ করেন। কন্যা সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার সব সহ্য করলেও পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এই সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে— তিনটি বসতবাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য করে। নগদ ১৭ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। এবং প্রায় কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জরুরি ফাইল আত্মসাৎ ও জিম্মি করে রাখে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আশা আক্তারের পরিবারের লোকজন জোরপূর্বক তাকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে যায় এবং বর্তমানে তার দুই শিশু কন্যা সন্তানকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে—
“মামলা তুলে না নিলে শিশু সন্তানদের ফেরত দেওয়া হবে না।”
এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আব্দুল মজিদ খান ও তার পরিবারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
একাধিক মামলা ও জিডি
ভুক্তভোগীর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বোচাগঞ্জ থানা, দিনাজপুর আদালত ও নির্বাহী আদালতে একাধিক মামলা এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিখোঁজ, চুরি, সম্পদ আত্মসাৎ ও জিম্মি সংক্রান্ত অভিযোগ। তবে এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ খান বলেন, “আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। আমার দুই শিশু কন্যা সন্তানকে জীবিত ও নিরাপদে ফেরত চাই। কষ্টে অর্জিত সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের কেউ দেখামাত্র নিকটতম থানা বা পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করলে এক লক্ষ টাকার বেশি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেন।











