
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ ঘাটে বেকারি ব্যবসায়ী শাহানুর মিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন শাহানুরের স্ত্রী। মামলায় শাহানুরের মা,বাবা ও তিন ভাইকে আসামী করা হয়েছে।
শাহানুরের স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে (১১জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলী) আদালতে ১৮৬০ ইং পেনাল কোডের ৩০৬/৩৪ ধারায় মামলাটি করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হ্যাপী আক্তার অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দিয়েছেন ডিবির ওসিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজমুল হাসান লিটন।
আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার আসামীরা হলেন, নিহত শাহানুর মিয়ার বাবা- সুলতান মিয়া, মা- হুনুফা বেগম, ভাই- জুনাইদ, জুবাইল ও গোলাপ মিয়া।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মৃত শাহানুর মিয়া বেকারির মালামালের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতো। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুইটি কন্যা সন্তান জন্ম নেন। তাহাদের নাম মাহিদা আক্তার (৭) ও মাইশা আক্তার (২)। বেকারি মালামালের ব্যবসা করে মৃত শাহানুর কিছু নগদ টাকা জমান৷ তার বাবা সুলতান মিয়া ও তাদের ভাই জুনাইদ-জুবাইদ জমানোর টাকার উপর লোভা করে সুলতান মিয়ার ৪ শতাংশ জায়গা কিনতে শাহানুরকে প্ররোচিত করেন৷ তারপর সুলতান মিয়ার কাছ থেকে সরল বিশ্বাসে ১৬ লক্ষ টাকায় জায়গাটি ক্রয় করতে রাজী হয়। তার কয়েকদিন পর শাহানুর তার বাবা সুলতান মিয়া ও তার ছেলেদের সামনে ১৬ লক্ষ টাকায় বাড়ীর জায়গাটি ক্রয় করেন৷ জায়গাটি ক্রয় করার পর সুলতান মিয়া সকল কাগজপত্র সহ ৪ শতাংশ জায়গার সাব রেজিষ্ট্রি দলিল না করে দিয়ে মৃত শাহানুর মিয়াকে ঘোরাতে থাকেন। তারা সবাই যোগ সাজসে ও পরিকল্পিত ভাবে জায়গাটি মৃত শাহানুরকে দলিল করে দিবে বলে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলেন! তারপর জায়গাটি আর দলিল করে দেননি। তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে শাহানুরকে আত্মহত্যা প্ররোচনা দিতে থাকেন। জায়গাটি দলিল করার জন্য আবারও সুলতান মিয়ার কাছে গেলে শাহানুরকে দলিল করে দিবে না বলে তাড়িয়ে দেন এবং “তুই গিয়া আত্মহত্যা করিয়া মরগা” অপমান করেন। শাহানুর এসব অপমান সহ্য না করতে পেরে কেরি পোকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

মামলার বাদী ফরিদা বেগম বলেন, তার স্বামী মৃত শাহানুর মিয়াকে তার শ্বশুর-শাশুড়ী ও দেবররা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে হত্যা করেছে। যে জায়গাটি দলিল করার জন্য তার স্বামী সুলতান মিয়ার পিছে দৌড়াদৌড়ি করেছে সে জায়গাটি এখনও দলিল হয়নি৷ তার দুই কন্যা সন্তানকে এ জায়গাটি দিবে না বলে আমাকেসহ তাদের বাড়ি থেকে বে করে দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাব- ইন্সপেক্টর মো. রেজাউল করিম জানান, আত্মহত্যা প্ররোচনার একটি মামলা আমার তত্ত্বাবধানে আছে৷ মামলাটির তদন্ত চলছে।










