শুক্রবার, ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারের ইনানী উদ্যানে মিলল মহাবিপন্ন মেঘলা চিতা

মোঃ ওসমান গনি, কক্সবাজার: কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে মিলেছে মহাবিপন্ন মেঘলা চিতার (ক্লাউডেড লেপার্ড) অস্তিত্ব।

দীর্ঘ ১৩ মাসের গবেষণায় ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছে বিরল এই প্রাণীর ছবি। পায়ের ছাপ ও মল পরীক্ষাতেও এর উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা।

উপকূলীয় এই বনে মেঘলা চিতার সন্ধানকে জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইনানী জাতীয় উদ্যানের ৩২টি স্থানে ১৫টি ক্যামেরা বসিয়ে গবেষণা চালানো হয়। তিনটি ক্যামেরায় মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি ধরা পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্যানের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা এই প্রাণীর বসবাসের জন্য উপযোগী।

শুধু মেঘলা চিতাই নয়, গবেষণায় এশিয়ান হাতি, মুখপোড়া হনুমান, শজারু, বনবিড়াল, চিতা বিড়াল, মায়া হরিণসহ আরও বহু প্রজাতির বন্য প্রাণীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জলাশয়, পাহাড়ি ছড়া ও ঘন বনাঞ্চলগুলোতে প্রাণীর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে প্রাণীদের এই নিরাপদ আশ্রয়স্থল এখন নানা সংকটে। বনভূমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, গাছ কেটে জ্বালানি সংগ্রহ, কৃষিজমি সম্প্রসারণ, মানুষের বসতি এবং রোহিঙ্গা শিবিরের বিস্তার ইনানীর জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি করছে। মানুষের আনাগোনা ও কৃষিনির্ভর এলাকায় প্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্যও কম পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই মেঘলা চিতার আবাসস্থল চিহ্নিত করে সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বিরল এই প্রাণীসহ ইনানীর অনেক বন্য প্রাণী হারিয়ে যেতে পারে। পাহাড়ি ছড়া ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ রক্ষা, বন দখল বন্ধ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাফার জোন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

গবেষকদের মতে, একসময় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে বন খণ্ডিত হওয়ায় বন্য প্রাণীর চলাচল ও আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে। তাই ইনানীর অবশিষ্ট বন রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ