মঙ্গলবার, ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিরাইয়ে প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সৎ ভাই-বোনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হুমায়ুন কবির, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গ্রিসপ্রবাসী এক ব্যক্তির পাঠানো প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার সৎ ভাই-বোনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জমি কিনে দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে এসব টাকা পাঠানোর পর দেশে ফিরে জমি ও টাকার হিসাব না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কাইয়ুম (৪৪)।

মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন আব্দুল কাইয়ুম। তিনি দিরাই উপজেলার দলুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন আগে গ্রিসে পাড়ি জমান আব্দুল কাইয়ুম। বিদেশে অবস্থানকালে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা এবং দেশে জমি কেনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে টাকা পাঠাতেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, তার মা জায়েরাবিবির মৃত্যুর পর বাবা আব্দুল খালেক দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ওই সংসারে জন্ম নেওয়া সেনু বেগম, সালেহ আহমদ, অলি আহমদ, রুজিনা বেগম ও আলী হাসান তার সৎ ভাই-বোন। তাদের মধ্যে সৎ বোন সেনু বেগমের কাছে তিনি দেশে টাকা পাঠাতেন।

মামলায় সেনু বেগম, তার ভাই সালেহ আহমদ, অলি আহমদ ও আলী হাসান, বোন রুজিনা বেগম এবং সেনু বেগমের স্বামী সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সালেহ আহমদ ও সুজন মিয়াকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করেন আব্দুল কাইয়ুম। এ ছাড়া অলি আহমদকে কাতারে পাঠাতে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেন তিনি। পাশাপাশি দেশে জমি কেনা এবং দিরাই পৌরশহরে বাড়ি নির্মাণের জন্য জায়গা কেনার আশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে টাকা পাঠান।

বাদীর দাবি, বাংলাদেশ অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, দিরাই শাখায় সেনু বেগমের ব্যাংক হিসাব, বিকাশ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে এসব টাকা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন ২০২৬ দেশে ফিরে নিজের নামে কেনা জমি এবং দিরাই পৌরশহরে বাড়ি নির্মাণের জন্য কেনা জায়গা দেখতে চান আব্দুল কাইয়ুম। একই সঙ্গে জমির দলিলপত্র ও পাঠানো টাকার হিসাব চান তিনি। তবে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও জমির কাগজপত্র কিংবা টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

এ নিয়ে সৎ বোন সেনু বেগম, তার স্বামী ও অন্যদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

আব্দুল কাইয়ুমের দাবি, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তিনি গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্তরা তাতে রাজি হননি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

মামলার সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন তারিক মিয়া, তাজ উদ্দিন ও মনজু মিয়া। তাদের সবার বাড়ি দিরাই উপজেলার দলুয়া গ্রামে।

এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সেনু বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার ভাই তার কাছেই টাকা পাঠাতেন। ভাইয়ের পাঠানো টাকায় তার তিন ভাই প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রবাসে রয়েছেন। এ ছাড়া ভাইয়ের টাকায় তার নামে জমিও কেনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সেনু বেগম আরও বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি করেছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও বাদী আব্দুল কাইয়ুম তা মেনে নেননি বলে দাবি করেন তিনি।

মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সাব ইন্সপেক্টর আবু বক্কর সিদ্দিক( সুনামগঞ্জ) বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই সততার সহিত মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করা হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ