
পাবনা প্রতিনিধি: শখের বশে বিকেলে বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন শিশু-কিশোরসহ আটজন। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। কিন্তু পথেই বজ্রপাতের শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও দুজন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া গ্রামের পাশে সোনাপাতিল বিলের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুণ্ডা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২২), নলমুড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন (২২), একই গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মিজান হোসেন (১২), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ ইসলাম (১০), শাহাদুল ইসলামের ছেলে মো. আবদুল্লাহ (১৮) এবং ইবাদুল ইসলামের ছেলে ইমন ইসলাম (১৪)।
আহত দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি গজমতিকুণ্ডা গ্রামের আতাপ আলীর ছেলে রিপন আলী (৩২)।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত দুজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে শিশু-কিশোরসহ আটজন সোনাপাতিল বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যান। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তাঁরা বিলের রাস্তা দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় বজ্রপাতে ছয়জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন আরও দুজন।
নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। নিহত আবদুল্লাহর বাবা শাহাদুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বেটারা শখ করে মাছ ধরতি গেছিল। কী হতে কী হলো বুঝলেম না। বুকটা ফাটে যাচ্ছে।’
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। যারা মারা গেছে, আহত হয়েছে, কেউ পেশাদার মৎস্যজীবী নয়। সবাই শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিল। এর মধ্যেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও দাফনের ব্যবস্থা করছি।’
আহত দুজনের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জাহিদুল ইসলাম। রাত নয়টার দিকে তিনি জানান, সংকটাপন্ন রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরজন আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পাবনা সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমদ আলী সরকার। তিনি বলেন, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই কৃষক পরিবারের সন্তান।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, রাস্তায় আছি। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে যাব। বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ আছে। তাৎক্ষণিক টাকাগুলো হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনে আরও সহায়তা করা হবে।’











