
রায়গঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির উপজেলা শাখার বর্তমান সভাপতি রবিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শোয়েব আক্তারের নেতৃত্বে গোপনে এ কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে এই দুই নেতার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিন সরকার ধানগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ফরিদুল ইসলামের আপন ভাতিজা। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক শোয়েব আক্তারের আপন বড় ভাই আব্দুস সবুর চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৩ সালের ৯ মে রবিন সরকার ও শোয়েব আক্তার রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁদের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এ বিতর্কের কারণে তাঁরা দায়িত্ব পাওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এই দুই নেতাকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা যায়নি। তবে সম্প্রতি তাঁরা গোপনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তৎপরতা শুরু করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।
এদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কমিটি গঠনের উদ্যোগ এবং নেতৃত্বের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির কয়েকজন কর্মী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের কয়েকজন বলেন, সংগঠনের দুঃসময়ে যাঁরা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাঁরা এখন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনা না করে কমিটি গঠনের চেষ্টা হলে কর্মীদের মধ্যে আরও বিভক্তি তৈরি হতে পারে।
তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ, সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভূমিকা এবং তাঁদের স্বজনদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সভাপতি রবিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শোয়েব আক্তারের বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।











