
লিটন সরকার, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ খঞ্জনমারা গ্রামে রোববার বিকাল ৩টার দিকে পল্লী প্রাণিচিকিৎসকদের উদ্যোগে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঘোড়াদৌড় ফাইনাল খেলায় প্রায় ৫০টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করে। ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদৌড় খেলা দেখার জন্য হাজার দর্শকের ঢল নামে। ফাইনালে মোট ৫টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ঘোড়া “দাপট দৌড়ে” প্রথম স্থান অধিকার করেন রৌমারী উপজেলার শহিদুল ইসলাম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন রুপচান।
কদম দৌড়ে প্রথম হয়েছেন রৌমারী উপজেলার আলম হোসেন। দ্বিতীয় হয়েছেন রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মো: রুবেল হোসাইন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলার ৩ নং বন্দবড় ইউনিয়ন পরিষদ বিএনপির মনোনয়ন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নুর আলম খান হিরো, বন্দবেড় ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহজামান, বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বকুল হোসেন ঠিকাদার, বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মাজেদা আক্তার, খঞ্জনমারা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিগতার সভাপতিত্ব করেন পল্লী প্রাণিচিকিৎসক শহিদুল ইসলাম, রৌমারী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদ ৬ নং ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান, সঞ্চালনায় ছিলেন আকতারুল ইসলাম, খঞ্জনমারা জাগ্রত স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সাজ প্রমুখ। এছাড়া গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ সেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ঘোড়াদৌড় আমাদের শত বছরের পুরোনো বাঙালি সংস্কৃতির এক অন্যতম অনুষঙ্গ। কালের বিবর্তনে এবং আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এই ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড়ের পরিচয় তুলে ধরতে এই ধরনের গ্রামীণ উৎসবের নিয়মিত আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি।
সুস্থ বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজ যখন মোবাইল আসক্তি ও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তখন এই ধরনের খেলাধুলা মানুষকে সুস্থ বিনোদন জোগায়। যুবসমাজকে সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ও মাদক থেকে দূরে রাখতে মাঠপর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলা উদ্বোধকেরা বলেন, ঘোড়াদৌড় শুধু একটি প্রতিযোগিতাই নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের আনন্দের খোরাক এবং পারস্পরিক মিলনমেলা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম ঘটে, তা সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।
বক্তারা এমন উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে আয়োজক কমিটি, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ঘোড়সওয়ার এবং উপস্থিত সাধারণ দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন।











