
মো. শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানাধীন তুলাতুলি এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে বশর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। জাতীয় দৈনিক, স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও মাদক কারবার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, গণমাধ্যমে মাদক কারবারের বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বশর ও তার সহযোগীরা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। তারা বশরসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের আগে বশর অটোরিকশা চালাতেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন সাধারণ অটোরিকশাচালক থেকে কীভাবে তিনি বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হলেন? তার সম্পদের উৎস কী? এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বশরের সহযোগীরা বিভিন্ন রুটে মাদক পরিবহন ও সরবরাহ করছে। তুলাতুলি থেকে ২ নম্বর রেলগেট, আল ফালাহ গলি এবং চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকাকে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের রুট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের মোড়েও মাদক কারবারিদের আনাগোনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের কারণে শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবারের প্রভাব পড়ছে কিশোর ও তরুণদের ওপর। মাদকসেবীদের আনাগোনা, চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনাও বাড়ছে বলে দাবি করেছেন তারা। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, মাদক কারবারের বিস্তার অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় এমন তৎপরতা বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা বলছেন, মাদক কারবার বন্ধে শুধু অভিযান নয়, সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক সরবরাহের উৎস ও অর্থের লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার, সংশ্লিষ্ট থানা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, তুলাতুলি, ২ নম্বর রেলগেট, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকা, আল ফালাহ গলি, নাসিরাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং সরকারি মহিলা কলেজের মোড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হোক। পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বশরের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাকে মাদক সরবরাহের রুট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











