
মোঃ আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। একটি চাঞ্চল্যকর দস্যুতা মামলার প্রধান দুই পরিকল্পনাকারীসহ মােট ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মােঃ ওয়াহিদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অভিযানে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালাে অন্ত্র এবং লুষ্ঠিত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মহানগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গাছা থানাধীন ইয়াকুব আলী মার্কট সংলগ্ন মেসার্স শাফিন প্যাকেজিং এন্ড প্রিশ্টিং প্রাঃ লিঃ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দস্যুরা প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড মিজানুর রহমানকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই বর্বরােচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি গাছা থানায় একটি ডাকাতির মামলা (মামলা নং-১৬) দায়ের করা হয়। মামলাটির রহস্য উদঘাটনে তখন থেকেই কাজ করছিল পুলিশের একটি বিশেষ টিম। পরবর্তীতে গাছা খানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সরাসরি নেতৃত্বে একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ কলমেশ্বর।
এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মামলার প্রধান দুই আসামি রাহুল খান (২৫) ও মােঃ শাকিল হােসেনকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটারের সিপিইউ, একটি ডিভিআর এবং একটি কিবাের্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দস্যুতার সময় ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরা ও একটি পেপার কাটার চাকু জন্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ২০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি রাহুল খানের বিরুদ্ধে ইতােমধ্যেই ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, মারামারি এবং পর্নোগ্রাফিসহ মােট ৭টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সে এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত। এই বিশেষ অভিযানে ২ জন ছাড়াও মাদকের মামলায় ৩ জন এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মােট ৯ জন আসামিকে যথাযথ আইনি প্রত্রিয়ায় আদালতে সােপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। অপরাধ দমনে গাছা থানা পুলিশের এমন তৎপরতা ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এই সফল অভিযান মূলত অপরাধীদের প্রতি জিরে টলারেন্স নীতিরই প্রতিফলন।
গাছা থানা পুলিশের এমন বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা বােধ করছেন এবং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে এটি দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকা রাখবে।











