বুধবার, ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণ: বিএনপির কাছে সোহেল তাজের প্রশ্ন

মো. হাসান ভূঁইয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধসংলগ্ন জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি অপসারণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।

একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিএনপি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সোহেল তাজ বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে কি না। তাদের আরও স্পষ্ট করে বলতে হবে, তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সম্মান ও লালন করে কি না।’

সোহেল তাজের এই বক্তব্যের পর তেলিয়াপাড়াসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার মুরাল-আকৃতির ছবি স্থাপন করা ছিল। প্রায় কয়েক মাস আগে মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ছবিগুলোকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করা হয়।

ঘটনার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে তৎকালীন ইউএনও বদলি হওয়ার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এবার প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপসারণ করা জাতীয় চার নেতার ছবি পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও চলচ্চিত্র অভিনেতা সাইফ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্ষোভ নয়, আপনাদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে রাখলাম।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মাধবপুর শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের নির্দেশনা ছিল, মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ চারজন নেতার ছবি এখানে সংযোজন করা হবে। কিন্তু সেই নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ছবি অপসারণের বিষয়ে তৎকালীন ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম নিজের দায় এড়িয়ে হবিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের তৎকালীন আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে গোলাম মোস্তফা রফিক কিছুদিন আগে মারা গেছেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাদের ছবি অপসারণের সিদ্ধান্ত কী প্রক্রিয়ায় এবং কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে কী কারণ ছিল—তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

তাদের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে অপসারণ করা জাতীয় চার নেতার ছবি দ্রুত পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ