বুধবার, ২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দৈনিক যায়যায়কালের গাজীপুর সিটি সংবাদদাতা হলেন জাহাঙ্গীর আলম

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর প্রতিনিধি: দেশের জাতীয় দৈনিক যায়যায়কালের গাজীপুর সিটি সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর এ নিয়োগে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আলামিনুল হক। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে সততা, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও পেশাদারত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিয়োগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাকে দৈনিক যায়যায়কাল-এর ‘গাজীপুর সিটি সংবাদদাতা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আলামিনুল হককে অনেক ধন্যবাদ। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব।”

গাজীপুরের গাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “মো. জাহাঙ্গীর আলম ব্যক্তি হিসেবে সৎ, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান। দৈনিক যায়যায়কাল-এর ‘গাজীপুর সিটি সংবাদদাতা’ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আশা করি, তিনি দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”

ওষুধশিল্পে কর্মজীবনের শুরু

মো. জাহাঙ্গীর আলমের কর্মজীবন শুরু হয় ওষুধশিল্পের মাধ্যমে। ২০০৫ সালে এলকো ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। সেখানে প্রায় এক বছর কাজ করার পর তিনি ঢাকা মেডিসিন রিসার্চ কোম্পানির ফোর পি রিসার্চ মার্কেটিং বিভাগে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে অরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস, এশিয়াটিক ফার্মাসিউটিক্যালস, টেকনো ড্রাগ ও লিয়ন ফার্মায় কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

নিজের কর্মজীবনের শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জীবন সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। কখনো সাফল্য আসে, কখনো কঠিন বাস্তবতা মানুষকে ভেঙে দিতে চায়। আবার সেই ভাঙা জায়গা থেকেই কেউ কেউ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। আমার জীবনও তেমনই এক পথচলার গল্প—পরিশ্রম, স্বপ্ন, ব্যবসা, সংকট, মানুষের প্রতি প্রত্যাশা, কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা।”

ওষুধশিল্পে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে ওষুধের বাজার, মানুষের প্রয়োজন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিয়েছে বলে জানান তিনি। চাকরির পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কিছু করার স্বপ্নও ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগ

২০১৪ সালে ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করেন জাহাঙ্গীর আলম। পরের বছর যুক্ত হন ডেন্টাল ব্যবসার সঙ্গে। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ছিল তাঁর লক্ষ্য।

তিনি জানান, নিজের উপার্জন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে গ্রামের বাড়িতে ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। সে সময় ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

করোনার পর আর্থিক সংকট

করোনার পর ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকট তাঁর জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। একসময় নিজের উদ্যোগে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা এই ব্যবসায়ীকে আর্থিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

দুঃসময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সেই দুঃসময়ে কাছের মানুষ, পরিচিতজন কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাইনি। তখন উপলব্ধি করেছি, সুসময়ে পাশে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক হলেও দুঃসময়ে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়।”

তবে প্রতিকূলতা তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি। পরিবারকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে নতুনভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ঋণ নিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা

আর্থিক সংকট মোকাবিলায় একপর্যায়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন জাহাঙ্গীর আলম। তবে আর্থিক চাপের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভবনমালিকের নোটিশসহ বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি হন। পরে আগের জায়গা ছেড়ে অন্য স্থানে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি জানান, ফার্মেসি ও ডেন্টাল ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উত্তরা ও বোর্ডবাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। বোর্ডবাজারে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং ডায়াগনস্টিক সেবা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত হন। প্রধান সড়কে প্রায় দুই বছর ডায়াগনস্টিক সেবা পরিচালনা করেন তিনি।

কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে উত্তরা ও গ্রামের বাড়ির ফার্মেসিসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ বন্ধ করে দিতে হয় তাঁকে।

নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়

ব্যবসা বন্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতাকে জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখতে চান না জাহাঙ্গীর আলম। বরং পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

তিনি জানান, বোর্ডবাজারে নিজের পুরোনো ফার্মেসি ও ডেন্টাল ব্যবসাকে ভিত্তি করে নতুন পরিকল্পনা শুরু করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের ওপরের অংশে ডায়াগনস্টিক সেবা ও ফিজিওথেরাপি কার্যক্রম গড়ে তোলেন।

নিজের বর্তমান উদ্যোগ সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আজ আমার কাছে এই উদ্যোগ শুধু একটি ব্যবসা নয়; এটি বহু প্রতিকূলতার পরও হাল না ছাড়ার প্রতীক। আমি চাই, মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের জীবনের সংগ্রামকে অর্থবহ করে তুলতে।”

সীমিত সামর্থ্য, পূর্বের অভিজ্ঞতা এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই এখন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

মানবাধিকার ও সাংবাদিকতায় নতুন অধ্যায়

ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি মানবাধিকার কার্যক্রম এবং সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি গাছা থানা মানবাধিকার সংগঠন আসক-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দৈনিক নববাণীতে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি দৈনিক যায়যায়কাল-এর গাজীপুর সিটি সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সাংবাদিকতা আমার কাছে মানুষের কথা বলার, জনদুর্ভোগ তুলে ধরার এবং সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে প্রকাশ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমি চাই, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস, মানুষের জীবনের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা একজন সংবাদকর্মীকে আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করে।”

জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক সাফল্য, আর্থিক সংকট এবং ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা থেকে নানা শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম।

নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় আমি শিখেছি, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না—সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ধৈর্য, পরিশ্রম এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার মানসিকতা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “আমি দেখেছি ব্যবসায়িক সাফল্য, আবার দেখেছি আর্থিক সংকট। দেখেছি নিজের হাতে কিছু গড়ে তোলার আনন্দ, আবার দেখেছি সবকিছু নতুন করে সাজানোর কঠিন বাস্তবতা। কিছু অভিজ্ঞতা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, কিছু অভিজ্ঞতা মানুষ চিনতে শিখিয়েছে, আর কিছু অভিজ্ঞতা আমাকে নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করতে শিখিয়েছে।”

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমি কাউকে দোষ দিয়ে নিজের জীবনকে ব্যাখ্যা করতে চাই না। কারণ আমার জীবনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমারই। অতীতের ভুল, ব্যর্থতা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।”

স্বাস্থ্যসেবা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার স্বপ্ন শুধু আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নয়। আমি চাই, স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে মানুষের উপকার করতে, সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের কথা তুলে ধরতে এবং মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।”

সামনে আরও বাধা আসতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি জানি, সামনে আরও বাধা আসতে পারে। সব পরিকল্পনা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তবু আমি বিশ্বাস করি, যতক্ষণ চেষ্টা করার শক্তি আছে, ততক্ষণ নতুন করে শুরু করার পথও আছে।”

নিজের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যর্থ হয়েছি, কিন্তু থেমে যাইনি। আমি কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিইনি। আমি অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু আবার গড়ে তোলার সাহস হারাতে চাই না।”

জাহাঙ্গীর আলমের ভাষায়, “আমার জীবন এখনো চলমান। প্রতিটি নতুন সকাল আমার কাছে নতুন সম্ভাবনা, প্রতিটি বাধা নতুন শিক্ষা, আর প্রতিটি চেষ্টা ভবিষ্যতের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।”

তিনি বলেন, “আমার পরিচয় শুধু আমার সাফল্য নয়, আমার পরিচয় হলো—বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েও নতুন করে শুরু করার সাহস।”

ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দায়িত্বশীল সংবাদকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন তাঁর প্রত্যাশা।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ