
যায়যায়কাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে লাগাম টানার আহ্বান জানিয়ে ব্রিকস জোটের যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সাম্প্রতিক যুদ্ধে পরস্পরবিরোধী অবস্থান থাকা স্বত্বেও আজ শনিবার গৃহীত ঘোষণাপত্রে দুই দেশের সমর্থন জানানোকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চলমান সংঘাত শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
আবুধাবির সরকারি মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছে, দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়, উত্তেজনা প্রশমন, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে জোটের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করার প্রত্যাশা নিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
চারটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, ব্রিকস নেতারা নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে হলেও যেকোনো দেশের একতরফা যুদ্ধকে নিন্দা জানিয়েছেন।
যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্ত বজায় রাখার আহ্বানের পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সহযোগীদের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিকসের প্রাথমিক সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও এতে যোগ দিয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও আরব আমিরাত।
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি…সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখার পাশাপাশি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে এমন পদক্ষেপ এড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
ঘোষণাপত্রে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা, সব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।
যৌথ ঘোষণায় গাজা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবটি আমলে নিয়ে সব পক্ষকে গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পূর্ণ ও অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো নীতি বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস জোট।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান শুধু শান্তিপূর্ণ উপায়েই অর্জন করা সম্ভব বলে আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার, যার মধ্যে রয়েছে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের ও নিজ ভূমিতে ফিরে আসার অধিকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ যৌথ বিবৃতি হয়তো বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না, তবে এটি উদীয়মান দেশগুলোর কাছে এই জোটের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরবে।
আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সংজয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধের চাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। ভারত যেটা করতে পেরেছে তা হলো—এ অঞ্চলের দেশগুলোকে একই টেবিলে বসিয়ে, তাদের যে বিষয়গুলোতে স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।’
সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমতা ও ন্যায়বিচারের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ব্রিকস দেশগুলোর ইতিহাসের সঠিক পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনে কাজ করতে হবে।











