রবিবার, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন, আশুগঞ্জে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোহাগপুর চকবাজার সংলগ্ন জামিয়া ইসলামিয়া দারুলউলুম মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ অংশ নেন। হাজী মোহাম্মদ মুসা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম জারু মিয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, আলকাস মিয়া, মহিউদ্দিন খান শ্যামল, হাজী মোহাম্মদ হেলাল শিকদার, শামসুল আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার বসিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে।

সমাবেশ থেকে প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

তারা বলেন, নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। নদী, নদীর তীর এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষা করা প্রশাসনসহ সবার দায়িত্ব। কোনো ধরনের প্রভাব বা বাধার কাছে নতি স্বীকার না করে জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ থেকে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ, বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় জরুরি প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হয়েছেন। মেঘনা নদী ও নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দাবি ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ