
পারভেজ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ৭ জনকে আটক করে প্রত্যেককে ৪০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ কাজে ব্যবহৃত ১টি ড্রেজার মেশিন ও ১টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের চর কাকরিয়া এলাকায় মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রত্যেককে ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত ১টি ড্রেজার মেশিন ও ১টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “নদী থেকে অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী জনপদে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারি সম্পদ ও নদী-পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধভাবে মাটি বা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক, প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।”
তিনি আরও বলেন, “সরাইলের নদী, খাল-বিল ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদীর তীরভাঙন, কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের এ ধরনের কার্যকর অভিযান অবৈধ মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু-মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আইনানুগ অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।











