শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবার ইরানে বড় হামলা

যায়যায়কাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

এ হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার এবং জ্বালানি অবকাঠামো নিশানা করা হতে পারে। দুই দেশ হামলার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যেকোনো ধরনের হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া ও সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান।

মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে গত বুধবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

কিছু মার্কিন পরিকল্পনাকারীর ধারণা, টানা তিন দিন ইরানে ব্যাপক পরিসরে তীব্র হামলা চালানো হতে পারে। হামলায় ইরানের অর্থনীতির এত বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করা হবে, যাতে তেহরান আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য হয়।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আগের বড় হামলায় লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। উল্টো বিশ্বে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নড়বড়ে হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতেও টান পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার একটি লক্ষ্য ছিল ইরানের সরকার পরিবর্তন করা। কিন্তু প্রায় আট মাসের সংঘাতের পরও ইরানের সরকার টিকে আছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ অবরোধও দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ইরানে নতুন করে যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

নির্বাচনের হিসাব, ট্রাম্পের দ্বিধা

নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর একাধিকবার বড় হামলার প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন ট্রাম্প। অক্টোবরের শুরুতে দুই দেশের বাহিনী হামলার প্রায় সব প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তিনি তা স্থগিত করেন। নভেম্বরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজারো মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান, বিশেষ বাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা।

২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে নেতানিয়াহু হেরে গেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুদিন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে। এসব কিছু হামলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে নতুন করে যৌথ হামলার আশঙ্কাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু, কিছু বিশ্লেষক এমনটি মনে করেন।

ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজাল মুয়ালেম বলেন, তিনি (নেতানিয়াহু) বিষয়টি কাজে লাগিয়ে জরুরি সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। তবে এবার তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের গভীর সন্দেহের মুখে পড়বেন।

আঘাত কোথায়, পাল্টা জবাব কী

পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনা। এর মধ্যে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ‘পিক্যাক্স’ কেন্দ্রও আছে। ট্রাম্প সেখানে ২২ হাজার পাউন্ডের ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছেন। তবে অস্ত্রবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমির ওপর বিস্ফোরিত হওয়া এই বোমায় ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র ধ্বংসের আশঙ্কা কম।

জ্বালানি স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্য। যদিও তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিছু কর্মকর্তা শোধনাগার এড়িয়ে যেতে চান।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলেও আঘাত করা হতে পারে।

হুতিদের হামলার কারণে গত বুধবার সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে না থাকা মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

তেহরানের বিশ্লেষক পেইমান সালেহি বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের বুঝিয়েছে, ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ানো। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

যুদ্ধের মাধ্যমে সমাধান কি সম্ভব

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। তবে পরমাণু বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। তারা চায় প্রাথমিকভাবে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি চুক্তি হবে। পরবর্তী পর্যায়ের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু ওয়াশিংটন শুরু থেকে পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনায় রাখতে চায়।

সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ডানা স্ট্রাউল বলেন, অঞ্চলটি যখন আরও অস্থিতিশীল ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠছে, তখন নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে পরিস্থিতির কী উন্নতি হবে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই দিতে পারেননি।

ইরানি আলোচক দলের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি তিন দিনে যুদ্ধ শেষ করার ধারণাকে আকাশকুসুম ‘কল্পনা’ বলে মনে করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের পাল্টা হামলা হবে আরও তীব্র, সৃজনশীল ও ভিন্ন ধাঁচের।’

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ