সোমবার, ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরাইল থানায় ১০ মাসে ১,১৫৮ আসামি গ্রেপ্তার, বিপুল মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

পারভেজ আলম, স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় গত ১০ মাস ১৩ দিনে বিভিন্ন অপরাধে মোট ১ হাজার ১৫৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময়ে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, মাদক কারবার, চুরি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, চোরাই মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এসব সাফল্য এসেছে বলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে পেশাদার ডাকাত ৪৩ জন, মাদক কারবারি ১৪৫ জন, নিয়মিত মামলায় ৩৫৮ জন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ৫৫ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৪৫৪ জন এবং অন্যান্য অপরাধে ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫৪ জনকে পুলিশের তথ্যে ‘ডেভিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময়ে দেওড়া মিন্টু হত্যা, পাকশিমুল মিঠু হত্যা, কালিকচ্ছ দত্তপাড়া সুমন হত্যা, কালিকচ্ছ মনিরবাগ গ্রামের কেয়ারটেকার নুর আহম্মদ হত্যা, সৈয়দটুলা রায়হান হত্যা, দেওড়া আবু ছায়েদ হত্যা, ধরন্তী ও সূর্যকান্দি গ্রামের সংঘর্ষে হাদিম মিয়া হত্যা এবং কুট্টাপাড়া জিহাদ হত্যা মামলাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উত্তর কুট্টাপাড়ার একটি এনজিও কার্যালয়ে ডাকাতির ঘটনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত আব্দুল গাফ্ফারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, পানিশ্বর ইউনিয়নের শান্তিনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লুণ্ঠিত ৩০ হাজার টাকা, দুটি রামদা, দুটি লোহার শাবল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।

শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে ভাসমান নৌকায় এক নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ এসব ঘটনায় মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া বিজয়নগর থানা এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া ৩১টি ষাঁড়ের বাছুর এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক অভিযানে একটি গরু ও চোরাই গরু বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ একজন গরুচোর, একটি ট্রাক ও একটি সিএনজিসহ দুজন গাড়িচোর, দুটি ব্যাটারিসহ দুজন চোর, পাঁচটি পানির কলসহ দুজন চোর এবং একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরাইল মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে পাঁচটি স্টিলের জানালার কপাট ও ছয়টি জানালার ফ্রেম উদ্ধার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ হাজার ৭৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২১৭ কেজি ১৫০ গ্রাম গাঁজা, ২ লিটার ৭৫০ মিলিলিটার চোলাই মদ এবং ২০৩ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৪৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের তালিকায় রয়েছে একটি দেশীয় রামদা, তিনটি লোহার পাইপ, একটি ছোরা, একটি কাটার, দুটি ছুরি, একটি ইস্পাতের চাইনিজ কুড়াল এবং বিভিন্ন মাপের দুটি জিআই পাইপ।

এ ছাড়া কালিকচ্ছ, দেওড়া ও সৈয়দটুলা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৫০টি বল্লম ও বর্শা, ৭২টি টেটা এবং বিভিন্ন আকারের প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বাঁশের কঞ্চি উদ্ধার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে নয়জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ১০ হাজার ৪৩৭ কেজি ভারতীয় জিরা, ১৯০ পিস PHNTENE HAIR SCINCE শ্যাম্পু, ২ হাজার ৮৮০ পিস ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক চকলেট এবং ৩৪টি ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাইল থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হত্যা, ডাকাতি, মাদক কারবার, চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা, পেশাদারত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরাইলকে অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অপরাধ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।”

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ মাসের বেশি সময়ে সরাইল থানার অভিযানে অপরাধ দমন, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ