মঙ্গলবার, ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিরাজগঞ্জে ৫৫৭ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি

আক্কাস আলী, সিরাজগঞ্জ: আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে রং-তুলরি অপরূপ সৌন্দর্যের আঁচড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের কারিগররা। সনাতন ধর্মালম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাৎসব।

দুর্গাপূজা সুন্দর সুষ্ট ও মনোরম পরিবেশে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তায় র্যাব পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রাখবে বলে জানালেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

দেবীকে দৃষ্টিনন্দন রূপ দিতে দিন রাত রং তুলির মাধ্যমে হাতের নিখুঁত কারুকার্যের কাজ করে যাচ্ছেন মৃৎ শিল্পরা।

কাদামাটি, খড়,বাঁশ, কাঠ ও সুতলি, দিয়ে দেবী দুর্গার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন প্রতিমা।

ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জের প্রতিমা তৈরীর অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ।এখন দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে দিনরাত রং তুলির কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা। দুর্গা, স্বরসতী, লক্ষী, কার্তিক, গনেশ ও অসুরকে রুপ চর্চায় সাজিয়ে তুলছেন কারিগররা।

তবে দেবী দুর্গাকে নানা রঙ্গে রাঙ্গাতে প্রতিমা তৈরীর উপকরণ এর দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় ন্যায্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানালেন প্রতিমা তৈরীর কারিগর সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের গারদহ পোদ্দার পাড়া গ্রামের শ্রী সুশীল পোদ্দার এর ছেলে শ্রী কানাই পোদ্দাদ।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে মধ্যে ১২ টি প্রতিবার অর্ডার পেয়েছি সেই কাজ বর্তমান চলমান রয়েছে। প্রতিটি প্রতিমা সেট নিম্নে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বছরে একবার প্রতিমা তৈরি করে যে লাভ হয় তাই দিয়ে আমাদের সংসার চলে। লাভ লস এর মধ্য দিয়েও বাপ দাদার ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। তবে গতবার ১০ টি প্রতিমার অর্ডার ছিল কিন্তু এবারে প্রতিমার অর্ডার পেয়েছি ১২ টির। মাটি. বাঁশ. খর. সুতলী রং তুলির দাম বেড়ে যাওয়ায় তুলনামুলকভাবে লাভ কম।

জেলার ৯টি উপজলোর প্রায় ৫৫৭ টি পূঁজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাৎসব পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক সঞ্জয় সাহা ।

তিনি বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর সষ্টমী ১৭ ও ১৮ দুইদিন সপ্তমী ১৯ অক্টোবর অষ্টমী ২০ অক্টোবর নবমী ও ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে যবনিকা হবে ৩ দিনব্যাপী এই উৎসবের আমেজ চলবে।

পূজার আনন্দ উপভোগ করতে শহরের এসএস রোড. মুজিব সড়ক.গোশালা রোড. বাহিরগোলা রোডসহ বিভিন্ন সড়কে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে মন্ডপের রাস্তার চারিপাশে।

দেশের শারদীয় দুর্গোৎসব পালনে রাজনৈতিক, সামাজিক, র‌্যাব, প্রশাসন, রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। সকল আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বস্তরের শ্রেণী পেশার ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

পুঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন – আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুঁজা উদযাপনে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সকল ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করছি। শান্তিপূর্ণভাবে পূঁজা উদযাপনে হিন্দু, মুসলিম ভাইদের সৌহার্দ্য ভালবাসায় ঐক্যমত গড়ে তুলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় গতবারের চেয়ে এবারে আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো.সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, পূজায় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন, র‌্যাব ও পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থা আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক পূজা মণ্ডপে নজরদারি রাখবে।পাশাপাশি সবকটি পূজা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর নজরে থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ