শনিবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বোচাগঞ্জে শিশু কন্যা জিম্মি ও কোটি টাকার জরুরি ফাইল আত্মসাৎ

দিনাজপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে থানা সংলগ্ন সখিপুর সড়ক গড়াই হাটুভাঙ্গা এলাকায় বসবাসকারী পাঁচ কন্যা সন্তানের জননী আশা আক্তারকে কেন্দ্র করে এক প্রকার বহুল আলোচিত বিতর্কের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ খান।

তিনি দাবি করেন, আশা আক্তার একাধিকবার তার সংসার ত্যাগ করে পালিয়ে গেছে এবং বর্তমানে দুই শিশু কন্যা সন্তানসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ জরুরি ফাইল ও নগদ ১৭ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ ও জিম্মি করেছে।

মজিদ খানের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১ টার দিকে মোঃ আনোয়ার (ওরফে আওয়াল) নামের এক যুবক ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে জানিয়েছেন, আশা আক্তার একই সময়ে দুই স্বামীর সংসার করছেন। এছাড়াও তিনি মজিদ খানকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং আশার বর্তমান অবস্থান ও বসবাসের স্থান দেখানোর আশ্বাস দেন।

মজিদ খান জানান, শাহা আলমের দুই ছেলে সন্তান মোঃ জসিম সেই ভাড়াটিয়া বাড়ির ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দানকারী। পালিয়ে যাওয়ার সময় আশা আক্তার তার দুই শিশু কন্যা (জান্নাতি আক্তার, ৬; মিম আক্তার, ৪) সহ নগদ ১৭,০৯,২০০ টাকা ও কোটি টাকার সম্পদ জরুরি ফাইল জিম্মি করে। এছাড়া, তার অভিযোগ, আশা আক্তার তার পরিবারের প্রলোভনে বারবার মামলা তুলে নেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মজিদ খান আরও জানান, তার শ্বশুরপক্ষ—লাইসুর রহমান, লিপি আক্তার, বড় দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন, বড় বোন রাশিদা বেগম, ছোট ভাই নয়ন মিয়া এবং অন্যান্য সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে কুপরামর্শ দিয়ে চলেছে, যার কারণে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছে। তিনি বলছেন, যদি কেউ তাদেরকে দেখে এবং নিকটতম পুলিশ ফাঁড়ি বা থানায় ধরিয়ে দেয়, ১ লক্ষ টাকার বেশি পুরস্কার দেওয়া হবে।

অভিযুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, দিনাজপুরে যতগুলি মামলা দায়েকৃত আছে, তা তুলে না নিলে কোটি টাকার সম্পদ জরুরি ফাইল ও ২ কন্যা সন্তানকে ফেরত দেওয়া হবে না। এই বক্তব্য তারা করেছেন বোচাগঞ্জ থানার পুলিশের সামনে—এএসআই শামীম হোসেন, কনস্টেবল মুসলিম এবং বাদী আব্দুল মজিদ খানের উপস্থিতিতে।

মামলার বিস্তারিত

বোচাগঞ্জ থানায় মামলা:

মামলা নং ৪/২৩ (দিনাজপুর আদালতের বিচারাধীন মামলা নং ১২৯/২৩)

সিআর মামলা নং ২৪৩/২৪

সিআর মামলা নং ২৫৪/২৪

বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল তদন্তাধীন সিআর মামলা নং ২৬৬/২৫

দিনাজপুর কোর্ট:

সিআর মামলা নং ৯০১/২৪

সিআর মামলা নং ২২/২৬

নির্বাহী আদালতের মামলা নং পি-২৪/২৬

সাধারণ ডায়েরি (জিডি):

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা: জিডি নং ২১৯৫/২৪ (নিখোঁজ)

বোচাগঞ্জ থানা: জিডি নং ৩৩৩/২৪ (নগদ টাকা ও অলংকার চুরি)

বোচাগঞ্জ থানা: জিডি নং ৮১৭/২৬ (নিখোঁজ)

বোচাগঞ্জ থানা: জিডি নং ১০১৫/২৬ (কোটি টাকার সম্পদ ও জরুরি ফাইল আত্মসাৎ/জিম্মি)

মজিদ খান অভিযোগ করেছেন, এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এক মাসের বেশি সময় পার হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে গণমাধ্যম, পুলিশ প্রশাসন এবং দেশবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।

“আমার দুই শিশু কন্যা সন্তান ও আমার কষ্টে অর্জিত সম্পদ ফেরত চাই। যারা সাহায্য করতে পারবেন, অনুগ্রহ করে নিকটতম পুলিশ ফাঁড়ি বা থানায় অবগত করুন,”—দাবি করেছেন আব্দুল মজিদ খান।

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *