
এস. এম. পারভেজ আলম আদেল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় গভীর রাতে বস্তাভর্তি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইল পাচারের সময় এক রিকশাচালককে আটক করার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) স্টোররুমকে ঘিরে।
আটক ব্যক্তি সাব্বির, যার বাড়ি সদর উপজেলার বুদল ইউনিয়নের মালিহাতা গ্রামে। জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে একটি অটোরিকশায় করে কয়েকটি বস্তা নিয়ে উপজেলা প্রাঙ্গণ ত্যাগের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় গেটম্যান আলমগীর মিয়া সন্দেহজনকভাবে তাকে আটক করেন।
গেটম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে বস্তা খুলে দেখা হলে ভেতরে পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে সাব্বিরকে আটক করে এবং ফাইলভর্তি বস্তাগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, অফিস বন্ধ থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কক্ষ থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বস্তাবন্দি করা হয়। এরপর অটোরিকশায় করে সরিয়ে নেওয়ার সময় ঘটনাটি ধরা পড়ে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, স্টোররুমের দরজা ও জানালা ভেতর থেকেই খোলা ছিল, যা ভেতরের কারও সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।
এ ঘটনায় জনমনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—একজন সাধারণ রিকশাচালক কীভাবে জানলেন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের অবস্থান? কীভাবে তিনি নিরাপত্তার স্তর পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন? এবং কীভাবে স্টোররুমের দরজা-জানালা ভেতর থেকে খোলা রইল? সরাইল থানার ওসি (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গেটম্যানের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফাইলভর্তি বস্তা উদ্ধার করেছে। তবে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে—যা প্রশাসনের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে এবং রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সরাইল উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গায়েব করে প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের পরিকল্পিত চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, আটক সাব্বির কি কেবলই একজন বাহক, নাকি তার আড়ালে রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র?
এলাকাবাসীর জোর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একজনকে আটক করে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে সরাইল) শাহীনা নাছরিন বলেন, “মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”











