
যায়যায়কাল ডেস্ক: ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফার কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
এই হামলার জবাবে লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৩১ জন নিহত ও আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
একই সঙ্গে ইসরায়েল ‘হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং আরও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের জাতীয় বার্তাসংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর এবং দক্ষিণ লেবানন। রাজধানীর উপশহরগুলোতে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন। আর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার ভোরে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘লেবানন ও এর জনগণকে রক্ষা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই প্রতিরোধ।’
হিজবুল্লাহর দাবি, তাদের নেতাদের ওপর হামলা ও ১৫ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতেই তারা এই পাল্টা আঘাত করেছে।
হিজবুল্লাহর হামলার পরপরই দক্ষিণ বৈরুতে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, হিজবুল্লাহ লেবানন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করছে। এই উত্তেজনার দায় তাদেরই। ইসরায়েল এর কঠোর জবাব দেবে।
তারা আরও জানায়, বৈরুত এলাকায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকার বিনত জবেইলসহ ৫০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয়দের বাড়িঘর থেকে অন্তত ১ কিলোমিটার দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এই গণ-উচ্ছেদ আদেশের ধরন গাজা যুদ্ধের সময় জারি করা আদেশের মতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে লেবাননের অভিযোগ, ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে আসছিল।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) হিজবুল্লাহর এই হামলার সমালোচনা করেছেন। তিনি একে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি লেবাননের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে এবং ইসরায়েলকে আগ্রাসন চালানোর অজুহাত দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশকে নতুন কোনও হঠকারিতার দিকে ঠেলে দিতে দেব না।’
২০২৪ সালের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর অধিকাংশ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যা করে ইসরায়েল, যার ফলে গোষ্ঠীটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এদিকে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের ডিক্রি জারি করলেও গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
তাদের দাবি, ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে এই অস্ত্রের প্রয়োজন।











