
মো. নাজমুল হাসান অপু, তালতলী (বরগুনা): বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা তালতলীতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে চোখে পড়ছে সমারোহ—নতুন রোপণ করা বোরো চারা আর পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোরো মৌসুমে ৪ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাত প্রায় ২হাজার ৪২২ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের চাষ হয়েছে প্রায় ২হাজার ৪৬০হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসাইন জানান, কৃষকদের উৎসাহ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আবাদ বেড়েছে। প্রণোদনার আওতায় ৪৫০ জন কৃষককে সার ও বীজ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে—এর মধ্যে ২৫০ জন উফশী এবং ২০০ জন হাইব্রিড জাতের বীজ পেয়েছেন।
তবে আশার মাঝেও রয়েছে দুশ্চিন্তা। পর্যাপ্ত সেচব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কেটে কিংবা দূরবর্তী খাল-পুকুর থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি টেনে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। কোথাও কোথাও সরকারি খাল কৃষকদের নিজস্ব অর্থায়নে পুনঃখনন করে পানি আনা হচ্ছে।
উপজেলার সাতনপাড়া এলাকার কৃষক আলী আকবর হাওলাদার জানান, “আমি ৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। আমরা নিজেরাই খাল কেটে পানি এনেছি। সরকারি সেচব্যবস্থা থাকলে দ্বিগুণ জমিতে চাষ করতে পারতাম।”
অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পারায় বড় পরিসরে বোরো চাষে এগোতে পারছেন না। ফলে উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সেচ সুবিধা চালু হলে তালতলীতে বোরো আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে জাতীয় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, সেচ সংকট সত্ত্বেও তালতলীর কৃষকেরা হার মানেননি। সীমিত সম্পদ ও বাড়তি ব্যয়ের মধ্যেও তারা মাঠে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনেছেন । যথাযথ সহায়তা পেলে এই সবুজ বিপ্লবই বদলে দিতে পারে উপকূলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র।











