
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় স্ত্রী ইনা পারভীন (চন্দনা) টাকা ও মালামাল নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বামী এম এম রবিউল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১০ বছরের দাম্পত্যজীবনে স্ত্রীর শিক্ষা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। সম্প্রতি লিখিত এক বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইনা পারভীন (চন্দনা)-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিখিত বক্তব্যে রবিউল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে উভয় পক্ষ একে অপরের পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
তার দাবি, বিয়ের পর প্রথম এক বছর তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। এরপর স্ত্রীর বিভিন্ন চাহিদা পূরণে তিনি ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করেন।
রবিউল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্ত্রীকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করান, প্রাইভেট শিক্ষক রেখে এসএসসি পাস করান এবং পরে কলেজে ভর্তি করিয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন। একই সময়ে তিনি সাতক্ষীরার চিকিৎসক ডা. মামুনুর রশীদের ক্লিনিকে নার্স হিসেবে কাজ শুরু করেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, স্ত্রীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, মোটরসাইকেল চালানো শেখানো, মোটরসাইকেল কিনে দেওয়া, ড্রাইভিং কোর্সে ভর্তি, চার চাকার গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং তার নামে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বসবাসের জন্য জমি লিখে দিয়ে একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয় বলেও দাবি করেন রবিউল ইসলাম।
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়িতে ভবন নির্মাণের জন্য দুই দফায় মোট ৩৫ লাখ টাকা দেন। সর্বশেষ স্ত্রী বাবার বাড়িতে যাওয়ার পাঁচ দিন আগে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেন।
তার দাবি, ২০ হাজার টাকা খরচ করে বাকি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তালা উপজেলার শিবপুরে বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।
রবিউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, তাদের ১০ বছরের দাম্পত্যজীবনে একাধিকবার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমবার খুলনার খালিশপুরে, দ্বিতীয়বার বাবার বাড়িতে এবং তৃতীয়বার পাটকেলঘাটায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিবারই দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তাকে ফিরিয়ে এনে নতুনভাবে সংসার শুরু করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি স্ত্রীকে খুঁজে পেলে যোগাযোগ করার জন্য দুটি মোবাইল নম্বর (০১৭১৬২০২৯০২/ ০১৯৬৬০২১২৩১) উল্লেখ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইনা পারভীন (চন্দনা)-এর বক্তব্য জানা যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।











