
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন (বিএএফ)। একই সঙ্গে তাদের অর্জিত সব পদক ও জাতীয় রেকর্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএএফের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানান, ২৯ সদস্যের কমিটির ২৫ জন সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের ডিএসডি (Differences of Sex Development) বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করায় জান্নাত ও কবিতাকে নারী বিভাগ থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মেডিকেল পরীক্ষায় ডিএসডি শনাক্ত
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গঠিত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে ২৮ বছর বয়সী জান্নাত ও ১৯ বছর বয়সী কবিতার ৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডি শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, উভয় অ্যাথলেটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস রয়েছে এবং তাদের গোনাড ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত বলে পরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং কবিতা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিবন্ধিত অ্যাথলেট। লিঙ্গ-যোগ্যতা নিয়ে নিজ নিজ বাহিনীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মেডিকেল পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা গত ১১ মে শেষ হয় এবং ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
টেস্টোস্টেরন মাত্রা নিয়ে ফেডারেশনের ব্যাখ্যা
ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের ডিএসডি বিধিমালা অনুসারে নারী বিভাগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ২.৫ ন্যানোমোল/লিটারের নিচে থাকার শর্ত রয়েছে।
বিএএফ জানিয়েছে, জান্নাত ও কবিতা এ শর্ত পূরণ করতে পারেননি। পরীক্ষায় জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬ ন্যানোমোল/লিটার এবং কবিতার ১৬.৫০ ন্যানোমোল/লিটার পাওয়া গেছে বলে ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জান্নাতের ২১ পদক ও দুটি জাতীয় রেকর্ড বাতিল
ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রোতে অর্জিত দুটি জাতীয় রেকর্ডসহ জান্নাত বেগমের ১৮টি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে কবিতা রায়ের অর্জিত একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।
ফেডারেশন জানিয়েছে, বাতিল হওয়া পদকগুলো প্রতিযোগিতার ফলাফলে পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় বণ্টন করা হবে।
নারী বিভাগে আর অংশ নিতে পারবেন না
বিএএফের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানিয়েছেন, জান্নাত ও কবিতা ভবিষ্যতে আর নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
এর আগে গত ১০ আগস্ট এক প্রতিবেদনে জান্নাত ও কবিতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের অর্জিত পদক বাতিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
আপিলের সুযোগ রয়েছে
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জুবায়ের রহমান রানা জানিয়েছেন, অ্যাথলেটরা চাইলে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।











