
রহিদুর রহমান মিলন, সারিয়াকান্দি (বগুড়া): বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি-জমা ও বসতবাড়ি দখলের পাঁয়তারা, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, বাড়ি থেকে বের হতে বাধা, গাছ কেটে নেওয়া এবং হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন স্বজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন (৬২) বছর বয়সী মোঃ মজনু মিয়া আকন্দ ও তার স্ত্রী।
এ ঘটনায় মোঃ মজনু মিয়া আকন্দ বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি তার স্বজন মো. মন্টু আকন্দ (৭৫), মোঃ মধু আকন্দ (৫০), মোঃরিয়াদ হোসেন (২৪), মোঃ মুন্নু মিয়া (৫৮), মোছাঃনুরভানূ (৪৮) এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মজনু মিয়া আকন্দ সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা তার ওয়ারিশ হলেও তার কোনো ছেলে সন্তান না থাকার সুযোগ নিয়ে তার জমি-জমা ও বসতবাড়ি জবরদখলের পাঁয়তারা করে আসছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন এবং মারধরের হুমকি দিচ্ছেন। তাকে বিভিন্ন সময় বলা হচ্ছে, অভিযুক্তদের কথা না শুনলে তার বিপদ হবে। এ কারণে তিনি ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
মজনু মিয়া জানান, তার দুই মেয়ে, জামাই এবং নাতি-নাতনি রয়েছে। বিষয়টি অভিযুক্তদের জানানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে তার অভিযোগ।
তার অভিযোগ, গত ১০-১২ দিন ধরে তিনি ও তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বাড়ির টয়লেটে যাওয়ার পথেও কাঁটা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বাড়ি থেকে মূল রাস্তায় বের হওয়ার মুখে বাঁশের চেকার দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মজনু মিয়া যাতে অন্যের বাড়ি, মেয়ের বাড়ি কিংবা বাজারে যেতে না পারেন, সেজন্য বিভিন্নভাবে তার চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সবসময় নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এ ছাড়া তার জমিতে লাগানো চারটি গাছ তার অনুমতি ছাড়াই অভিযুক্তরা কেটে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মজনু মিয়া। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেও অভিযুক্তরা তার কোনো কথা শুনছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতিতে নিজের ও স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মজনু মিয়া। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সারিয়াকান্দি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে মো. দুদু মিয়া, পিতা-মৃত ফজর আকন্দ এবং মোঃ খোকা মিয়া, পিতা-মৃত শরিফ আকন্দের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী। তারা উভয়েই বাঁশগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া স্থানীয় আরও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর সারিয়াকান্দি থানার এসআই আনোয়ার হোসেন অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বরই কাটার বেড়া সরিয়ে দেয়। পরে বিরোধের বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে থানায় এসে কথা বলার জন্য বলা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তারা পারিবারিক ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধটি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির পাশাপাশি বৃদ্ধ দম্পতির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং গাছ কাটার অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের কারণে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।











