
খন্দকার শাহ নেওয়াজ, রায়পুরা: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের শ্রীনগর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারের জেরে রাতভর টেঁটা ও বন্ধুক যুদ্ধে নিহত ৬ পরিবারের স্বজনদের মধ্যে কান্নার রুল পড়েছে। চোখের সামনে প্রতিপক্ষের গুলিতে নির্মম মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছে না তারা।
উপজেলার সায়দাবাদ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জেরে প্রতিপক্ষ হানিফ মাস্টারের লোকজনের হামলা ও গুলিতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে ঝড়ে গেছে ৬টি তাজা প্রাণ। এমন নির্মম মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতেরা হলেন- সায়দাবাদ গ্রামের সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম, শাহীন মিয়ার ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র জুনাইদ, ইসমাইল ব্যাপারীর ছেলে আমির হোসেন, তার ছোট ভাই বাদল মিয়া, আব্বাস আলীর ছেলে আনিস ও আসাবুদ্দিনের ছেলে সিদ্দিক। নিহতরা সবাই ফিরোজ মেম্বারের সমর্থক বলে জানা গেছে। এ সময় আহত হয় অন্তত ৪০ জন।
আহতদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- নোয়াব মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল (৩০) শাহ আলমের ছেলে ইমরান (২৩), সুলতান মিয়ার ছেলে শহিদ মিয়া (৭০), বনি মিয়ার ছেলে এরশাদ মিয়া (৪০), মৃত দারু মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া, মৃত ইউনূছ মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৫০), সম্ভু মিয়ার ছেলে আব্বাস আলী (৫০), বাচ্চু মিয়ারে ছলে জয় (১৯), আয়নুল মিয়ার ছেলে শাহারাজ (২২), বজলু ফকিরের ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৮), মালেক মিয়ার ছেলে মাসুম মিয়া (১৯), জামাল মিয়ার ছেলে ইদন মিয়া (২৩), মৃত সব্দর আলীর ছেলে মনসুর আলী (৫০), মজিদ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৬০), আবির মিয়ার ছেলে সৌরভ আলী (৩৫), ফরিদ মিয়ার ছেলে আয়মান (২০), মহন মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল (২৫), মাইন উদ্দিনের ছেলে সায়মান (১৪), শাহ আলমের ছেলে মাসুদ (২৩), আসাদেও ছেলে সানজিদ (১৮), গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তানভির (২০), আতাবর হোসেনের ছেলে সোহান মিয়া (২০), জাবিন মিয়ার মেয়ে তানজিনা (১৯), মানিক মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২১), আসমত আলীর ছেলে আলী আকবর (৩৮) সহ প্রায় অর্ধশত।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দু’পক্ষের সমর্থকদের টেঁটা ও বন্ধুক যুদ্ধে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়য়েনের সায়দাবাদ একই গ্রামের হানিফ মাস্টার ও ফিরোজ মেম্বারের দলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জেরে গত বুধবার রাতে হানিফ মাস্টারের লোকজন ফিরোজ মেম্বারের সমর্থকদের এলাকায় হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এসময় তাদের গুলিতে ফিরোজ মেম্বার সমর্থক ৬ জন নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহতের ঘটনা ঘটে।
এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত উক্ত ঘটনায় রায়পুরা থানায় কোন মামলা রুজু হয়নি। অভিযোগ আসলে আমলে নেওয়া হবে বলে জানান রায়পুরা থানার এসআই আব্দুল হালিম।











