
যায়যায়কাল ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি সামরিক সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দেশের নাম নিঃসন্দেহে ইসরায়েল।
গাজার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক আগ্রাসনের পাশাপাশি সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনেও হামলা চালিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছেন তিনি। পাশে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকেও।
বিশেষজ্ঞদের মত, এসব সংঘাতে আন্তর্জাতিক আইন, সভ্যতা-ভব্যতা, আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক রীতিনীতি—কোনো কিছুই মানছে না জেরুসালেম।
এই পরিস্থিতিতে ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের’ দায়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার জবাবে গাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর চড়াও হয় ইসরায়েলি সেনা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই প্রতিশোধমূলক উদ্যোগের বলি হয়েছেন হাজারো মানুষ। সে সময় থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সোচ্চার মাদ্রিদ।
বরাবরই গাজা ও প্রতিবেশী দেশ লেবাননে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা করেছে স্পেন।
জবাবে নেতানিয়াহু স্পেনের বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি ও শত্রুতার’ অভিযোগ আনেন।
আন্দালুসিয়ায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় সানচেজ বলেন, ‘মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্পেন। সেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ করে। যার ফলে তারা ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদার হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে’—বিষয়টি একেবারে সোজাসাপ্টা।
এই ভাষণের পর ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সাআর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় ব্যাঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া দেন।
তিনি দাবি করেন, তার দেশ এমন কোনো মানুষের কাছ থেকে ভণ্ডামি নিয়ে উপদেশ শুনতে চায় না যিনি নিজেই স্বৈরাচারী শাসকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।
এ ধরনের নেতৃত্বের উদাহরণ দিতে যেয়ে তিনি তুরস্ক (কারো নাম উল্লেখ করেননি) ও ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোর উদাহরণ দেন।
২০০০ সালের জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তিতে সই দেয় ইসরায়েল। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে সহযোগিতার পাওয়ার বিষয়ে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়।
তবে ওই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, ইসরায়েলকে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার জেরে স্পেন ও আয়ারল্যান্ড দাবি করে, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন ইসরায়েল। যার ফলে ২০২৪ সালে ওই দুই দেশ চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়।
একই বছরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে বৈধতা দেয় স্পেন। এতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায় ইসরায়েল।
কিন্তু তাতেও দমেননি স্পেনের নেতা সানচেজ।
বারবার ইসরায়েলের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ চালু করেছেন এই জনপ্রিয় নেতা।
বর্তমানে ইসরায়েল থেকে অস্ত্র আমদানি-রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে মাদ্রিদ। পাশাপাশি, গাজার যুদ্ধের প্রতিবাদে আরও নয়টি পদক্ষেপ নিয়েছেন পেদ্রো সানচেজ।
এর মধ্যে আছে ইসরায়েলি সেনাদের ব্যবহারের জন্য তেল বহনকারী কোনো জাহাজকে স্পেনের বন্দরে ভিড়তে না দেওয়া, স্পেনের আকাশসীমা দিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের জন্য অস্ত্র পরিবহন নিষিদ্ধ করা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের কাছ থেকে কোনো পণ্য আমদানি না করা।
আগামী ২১ এপ্রিল লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিশেষ বৈঠকে বসবেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
ওই বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনার প্রস্তাব জানিয়ে ইউরোপীয় কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া।
চলতি মাসে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, স্পেন তার দেশের বিরুদ্ধে ‘নেতিবাচক কূটনীতিক প্রচারণা’ চালাচ্ছে।
ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ‘নিরবে সহ্য করে যাচ্ছে’।
এই পরিস্থিতিতে স্পেনের নেতা পেদ্রো সানচেজের এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী জনগোষ্ঠীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।











