
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: দেশজুড়ে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এদিকে আগামী শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত দেশের আট বিভাগেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে পরিস্থিতি তিন দিনের বেশি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং শনিবার থেকে উন্নতি হতে পারে।
ইতোমধ্যে বান্দরবানের সাঙ্গু, কক্সবাজারের মাতামুহুরী এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানিও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি এখন নেই। তবে এর প্রভাব এবং বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগানে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৩০ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৭৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উজান অঞ্চলেও আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।











