সোমবার, ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বাজেট এক উপজেলার, সেবা তিনটির, ৪৫ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৮ চিকিৎসক

মো. হাসান ভূঁইয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে পার্শ্ববর্তী আরও দুটিসহ মোট তিনটি উপজেলার মানুষকে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একদিকে তীব্র চিকিৎসক ও নার্স সংকট, অন্যদিকে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগীর চাপ—সব মিলিয়ে এক প্রকার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা।

সম্প্রতি হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান। সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে তিনি হাসপাতালের নানা সীমাবদ্ধতার এই বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।

এক উপজেলার বরাদ্দে ৩ উপজেলার চাপ

মাধবপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর ও বিজয়নগর—এই তিন উপজেলার মানুষ চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ডা. ইমরুল হাসান জানান, বাজেট ও ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয় কেবল একটি উপজেলার হিসাব করে। একটি উপজেলার বরাদ্দে তিন উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ওষুধ ও লজিস্টিক সাপোর্টে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং প্রায়শই জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ৪৫টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৮ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে চিকিৎসকদের ওপর প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত কাজের চাপ লেগে থাকছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে সবসময় ৭০ থেকে ৮০ জন, এমনকি অনেক সময় ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকট থাকায় অতিরিক্ত এই রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে সেবা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোগীর তুলনায় নার্সিং স্টাফের সংখ্যাও কম, ফলে তাদের পক্ষেও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিন উপজেলার রোগী সামলাতে গিয়ে ওষুধের সরবরাহেও টান পড়ছে।

ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসানের বক্তব্যের বাইরে হাসপাতালের আরও কিছু বাস্তব চিত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে দুজন দন্ত চিকিৎসক পদায়ন থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নেই। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত ডেন্টাল সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এছাড়া, হাসপাতালে নিজস্ব কোনো ক্যান্টিন বা খাবারের সুব্যবস্থা না থাকায় ভর্তি রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর ও বাইরের খাবার খেয়ে রোগীদের দিন পার করতে হয়, যা তাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তিন উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাধবপুর হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে শূন্য পদে দ্রুত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ এবং দন্ত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ক্যান্টিন চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ