
শেরপুর প্রতিনিধি: কবিরাজির নামে প্রতারণা করে শেরপুরে এক কিশোরীর কাছ থেকে বিপুল স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লাখ টাকা ও একটি আইফোন-১৭ প্রো ম্যাক্সসহ মোট পাঁচটি ফোন উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এক নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
বুধবার ময়মনসিংহ সদরের মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
গ্রেপ্তার মো. মনির হোসেন (২১) জামালপুর সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার প্রয়াত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ‘মেইড ইন জামালপুর’ নামে ফেইসবুক পেইজে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করতেন।
প্রতারণার শিকার কিশোরী (১৩) শেরপুরের একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কীভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায় সে বিষয়ে ভিডিও দেখতে ওই কিশোরী। এর মধ্যে টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয় দেওয়া মো. খুরশেদ কবিরাজের সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়।
পরে কবিরাজের সহকাযোগীরা ‘কবিরাজ’ ও ‘আল্লাহর দান’ নামে একাধিক ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কবিরাজের ফি হিসেবে ওই কিশোরীর কাছ থেকে খাসি, জায়নামাজ, আগর বাতি, মোমবাতি, গরুর দুধ, ফল ও জোড়া শুকর জবাই এবং দুই কেজি চন্দন কাঠ কেনার কথা বলে চলতি বছরের ৬ ও ৯ মার্চ দুই লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, সবশেষ ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১৭ মার্চ ওই কিশোরী আবার বিকাশে টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হয় এবং বিষয়টি তার বাবাকে জানানো হয়।
পরে ওই দিনই ওই কিশোরীর বাবা শেরপুর সদর থানায় প্রতারণার মামলা করেন। মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের নজরে এলে জামালপুরের ইউনিটকে রহস্য উদঘাটনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার মোস্তফার ছেলে মো. মুছা মিয়া (২৯) এবং নবাব আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলামকে (২৮) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৯ এপ্রিল।
পুলিশ সুপার বলেন, পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার প্রতারক চক্রের প্রধান মনির হোসেনকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া মনিরের বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়; যার আনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা পংকজ দত্ত।











