
আলমগীর হোসেন হিরু, চাটখিল(নোয়াখালী): নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মুরুব্বিদের সামনে সিগারেট খেতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রদলের ছয় নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে সোনাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি নাঈম হাসান (২৩) ও ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মো. আসিক (২১)-কে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার দুপুরে নাঈমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অন্য চারজন সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাছির উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযুক্ত অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওটি ইউনিয়নের কয়েকজন কিশোর-তরুণ নোয়াগাঁও চৌরাস্তায় প্রকাশ্যে সিগারেট সেবন করছিলেন। এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি নাঈম হাসানসহ কয়েকজন তাদের ধূমপান করতে নিষেধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই কিশোর-তরুণেরা সেখান থেকে চলে যান।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান অভিযোগ করেন, আগের দিনের ঘটনার জেরে শুক্রবার রাতে একদল কিশোর-তরুণ অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে নাঈম, আসিকসহ অন্তত ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
তবে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ধূমপানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতদের মধ্যে একজনের পেট ও ঊরুতে গুলি লাগায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।











