
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে গোপালগঞ্জ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)।
কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর হঠাৎ বিএনপিতে সক্রিয় হয়ে মনোনয়ন পাওয়ায় তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
তাদের অভিযোগ, এই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে পুরোনো ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করা হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ অন্য দল থেকে এসে মনোনয়ন পাওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি অবিচার। এতে দলে বিভাজন তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে সুবর্ণা বলেন, ‘বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার, আমাকে এক সময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক করা হয়েছিল, কিন্তু এতে আমার সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়েই, তাদের ইচ্ছা মতো ওই তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’
‘আমি কখনো সেই তালিকা দেখিনি, এমনকি কোনো মিটিং-মিছিল বা দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি। এ কারণে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করিনি। কারণ বিষয়টিকে আমি কখনো গ্রহণই করিনি। আমার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না,’ বলেন তিনি।
সুবর্ণা আরও বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষিকা, আমি আমার পেশাগত ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কাজে আমাকে যেতে হয়, তাই রাজনীতির ওই বিষয়টি আমি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছি।’
তবে ছাত্রজীবনে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘খুলনা সিটি কলেজে পড়ার সময় আমি বিএনপির ছাত্র সংগঠনে ছিলাম, এবং তখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছি। সেই সময়ের কিছু প্রমাণও রয়েছে, যেমন পত্রিকায় আমার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিয়ের পর আমি আর সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ছিলাম না।’
‘গত বছরের ৮ নভেম্বর একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি, সেখানে আমি বক্তব্য দিই। ওই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন, তিনি আমার বক্তব্য শোনেন। আমার সেই বক্তব্য পরে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়, এবং বাংলাদেশসহ ভারতের অনেক মানুষ তা দেখেন ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তখন থেকেই আমি আবার বিএনপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই,’ যোগ করেন তিনি।











