শুক্রবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা ধরাছোঁয়ার বাইরে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যায় চার দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

গত সোমবার রাতে নিহত ব্যক্তির বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় এ হত্যা মামলা করেন। এতে প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াতের নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য। তার বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে; বাবার নাম কালাম দফাদার।

মামলার এজাহারে চারজনের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মো. আসাদুজ্জামান (৩৫)। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি। ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে পশ্চিম–দক্ষিণ ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার গাজী মিস্ত্রীর ছেলে রাজীব মিস্ত্রী (৪৫)। ৪ নম্বর আসামি হলেন ইসলামপুর (পূর্ব পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।

এর আগে সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে থানা-পুলিশ মৌখিকভাবে জানিয়েছিল, মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি একজন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা।

এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। আশা করা যাচ্ছে, গ্রেপ্তার হয়ে যাবে। অভিযান চলছে।’

মামলার এজাহারে ফজলুর রহমান উল্লেখ করেছেন, তার ছোট ভাই মো. আবদুর রহমানের (৫৭) ফিলিপনগরে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ আছে। শনিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে তার ভাই বাড়িতে অবস্থিত দরবারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১ নম্বর আসামি মুহাম্মদ খাজা আহমেদের হুকুমে এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন আসামি একযোগে সংঘবদ্ধ হয়ে হাতে লোহার রড, হাঁসুয়া, দা, ছুরি, কুড়াল, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে দরবার শরিফে অনধিকার প্রবেশ করেন। দরবারের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন। রাজীবসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা দরবার শরিফের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে জোবায়ের (৩১) নামের একজনকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এরপর আসামি রাজীব মিস্ত্রি লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমানের কোমর বরাবর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামিরা আবদুর রহমানকে এলোপাতাড়িভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার ওপর, ডান চোয়ালের কাছে, ঠোঁটের মধ্যে, থুঁতনিতে, পিঠের বাঁ পাশে ও ডান পায়ের হাঁটুর পেছনে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন এবং বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন। আবদুর রহমানের চিৎকারে দরবার শরিফের পরিচারিকা জামিরন দৌড়ে যান। ৩ নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারতে গেলে কোপটি বাঁ হাত দিয়ে ঠেকালে বাঁ হাতের কবজির ওপরের অংশের মাংস কেটে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দরবার শরিফ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা আবদুর রহমানের দরবার শরিফে থাকা স্টিলের আলমারি ভেঙে ৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করেন।

এ ব্যাপারে জানতে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, , বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ