সোমবার, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির ‘আত্মহত্যা’

মো. মিজানুর রহমান, বগুড়া: বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামি আত্মহত্যা করেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানার বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য, আসাদ বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও তিনি বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নিহত আবদুল মান্নানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ জানিয়েছেন, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর আরও দুজনকে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করেন তারা। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ একটি বিলে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তারা অটোরিকশাটি নিয়ে নওগাঁ যান। সেখানে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশাটি ফেলে তাঁরা পালিয়ে যান।

আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ওসি ইকবাল বাহার।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও বের না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। পরে তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন।

আসাদের বাবা মতি মুন্সি একজন মাদ্রাসাশিক্ষক। তিনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে আত্মহত্যার খবর তিনি পরে জানতে পারেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার আগেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ