মঙ্গলবার, ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

বিদেশে এক টাকাও খুঁজে পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেব: আসিফ

যায়যায়কাল ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিদেশে তার এক টাকাও বিনিয়োগের প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

সোমবার সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শুধু প্রমাণ করুন যে আসিফ মাহমুদ বিদেশে এক টাকাও বিনিয়োগ করেছেন বা দেশের বাইরে সামান্য এক চিমটি ধুলাও কিনেছেন। বিদেশে কোথাও এক টাকাও পাওয়া গেলে সেদিনই আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’

আসিফ বলেন, তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অংশ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তার দায়িত্বকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। এ জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়েছে কমিশন।

সর্বশেষ অভিযোগে দুবাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে আসিফ বলেন, এসব অঙ্ক ‘আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজের ১১ ফেব্রুয়ারির পোস্টে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি পেজটিকে আওয়ামী লীগের ‘প্রচারপেজ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

আসিফ বলেন, ‘আমরা জানি না আজকের কণ্ঠ দুদক চালায়, নাকি দুদক আজকের কণ্ঠ চালায়। বিষয়টি খুবই বিভ্রান্তিকর।’

একটি মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

আসিফ বলেন, শুরুতে প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ১৫০টি স্টেডিয়াম ছিল। পরে তা প্রায় সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি প্যাভিলিয়ন ও দর্শকদের বসার ব্যবস্থাসহ বড় পরিসরের সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে।

তিনি বলেন, সংশোধিত প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একনেকে অনুমোদিত হয় এবং এখনো বাস্তবায়নাধীন।

আসিফ বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন এতে দুর্নীতি হয়েছে, তাহলে কাজ বন্ধ করে দিন।’

সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে তার কিছু কর্মকাণ্ডে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন দাবি করে আসিফ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে তিনি ওই নেতাদের নাম বলেননি বা দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

দুদকের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরায় গণমাধ্যমের কিছু অংশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে আমি ভুক্তভোগী হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর পর দুদকের তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব। কিন্তু ততদিনে যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যাবে।’

তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের অর্থ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আসিফ।

তিনি বলেন, তার মাত্র একজন বোনজামাই রয়েছেন এবং তার ভাগ্নের বয়স প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অর্থ পাচারের অভিযোগে এমনকি একটি শিশুকেও টেনে আনছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ বলেন, ‘দয়া করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচার করুন। শুধু ক্লিকবেইট শিরোনামের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।’

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ