
মোঃ পারভেজ আলম, স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সরাইল থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ সময় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন রুমিন ফারহানা ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সমর্থক।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পুরো ঘটনাকে পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা বলে দাবি করেছেন ওসি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, থানার ওসির কক্ষে অবস্থানকালে রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তাদের একজন দাবি করেন, একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং মাটিখেকোদের ইটভাটা ও নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, ওসি আওয়ামী লীগের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন। একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক মন্তব্যও করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা চাইতে পারি। নিরাপত্তা দেওয়া আপনার দায়িত্ব। আমি সংসদ সদস্য হয়ে আপনাকে ১০ বার ফোন করলেও আপনি একবারও ফোন ধরেন না।”
ওসির আগের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ওসি বলেছিলেন, তার নেতাকর্মীরা তাকে নিরাপত্তা দেবেন। এ সময় নিজের সঙ্গে থাকা সমর্থকদের দেখিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, তার নেতাকর্মীরা তার সঙ্গেই আছেন এবং বাইরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের তোলা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সরাইল থানার ওসি মঞ্জুরুল কাদের ভূঁইয়া।
তার দাবি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার জন্য লোকজনকে শিখিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওসি বলেন, “তারা আমার কক্ষে মারামারির পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছে। আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমার কাছে পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমি এসপি মহোদয়কে জানিয়েছি।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য ও পুলিশের একজন কর্মকর্তার মধ্যে প্রকাশ্যে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সত্যতা, ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা কোনো তদন্তের ফলাফলও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।











