
রহিদুর রহমান মিলন, সারিয়াকান্দি (বগুড়া): বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাঙ্গালী নদী থেকে উত্তোলিত বালু অপসারণ ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে হুমকি, শেড ঘরে তালা, ভাঙচুর ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
গত ১০ অক্টোবর এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন (ডাবলু) নামের এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, বাঙ্গালী, করতোয়া, ফুলজোড় ও হুরাসাগর নদীতে সিস্টেম ড্রেজিং পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের মেরুর চর এলাকায় বাঙ্গালী নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হয়। ২০২৫ সালে উত্তোলিত বালু অপসারণের দায়িত্ব পায় ‘নাছির উদ্দিন এহসান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে তারা ওই বালু কিনে নেওয়ার জন্য দ্বিতীয় পক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ডাবলুর কাছে বিক্রি করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে সাখাওয়াত হোসেনের ক্রয়কৃত বালু সরাতে গেলে স্থানীয় জহুরুল ইসলাম বিশু ও আজিজার রহমানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল বাধা দেয়। এসময় তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। চাঁদা দাবিতে বাধা দিলে এবং শেড ঘরে তালা লাগানোর প্রতিবাদ জানালে সাখাওয়াত হোসেনের ম্যানেজার ভিক্ষু মেম্বারকে প্রাণে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শেড ঘরে থাকা মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন ডাবলু বলেন, “বালুটি প্রথমে নিলামে কিনেছিলেন নাছির উদ্দিন। তিনি নিতে না পেরে আমার কাছে বিক্রি করেন। এই বালু নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের জমি ব্যবহারের জন্য তাদের অনুমতি নেয়া হয়েছে। টাকাও দিয়েছি। এরপর আমরা ট্রাক চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করি। কিন্তু আমি যেন সেই বালু অপসারণ করতে না পারি, সেজন্য প্রতিপক্ষরা আমার শেড ঘরে হামলা চালিয়েছে এবং লোকজনকে মারধর করেছে।”
সাখাওয়াত হোসেনের অংশীদার মিলন খলিফা জানান, ঘটনার দিন তারা শ্রমিক নিয়ে কাজ করছিলেন। হঠাৎ নদীর ওপার থেকে লাঠিসোটা নিয়ে ৭০ থেকে ৮০ জন যুবক এসে তাঁদের ভেকু চালক, ম্যানেজারসহ একাধিক শ্রমিকের ওপর হামলা ও মারধর চালায়।
তবে সরজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে অন্য চিত্রও পাওয়া গেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বালু পরিবহনের জন্য সাখাওয়াত হোসেন ও তাঁর লোকজন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির আবাদি জমি ব্যবহার করছেন, যার ফলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া অনেকের ব্যক্তিগত জমি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে গভীরভাবে বালু তুলে নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
এমনি এক জমির মালিক ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ব্যক্তিগত জায়গার ওপর দিয়ে তারা রাস্তা বানিয়ে বালু নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে তারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি বা কোনো ক্ষতিপূরণও দেয়নি।”
এ ঘটনায় বালুর মালিকের দেয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম বিশুর কাছে। চাঁদা দাবির বিষয় অস্বীকার করে তিনি বললেন, এখানে আমরা কোনো চাঁদা দাবি করিনি। বরং ডাবলুর দ্বারা এখানকার মানুষ জমি, ফসলের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা আমাদের কাছে এসে জানিয়েছে। এরপর সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়।
সারিয়াকান্দি থানায় এস আই মিনার আলী বলেন, আমি ঘটনার স্হল পরিদর্শন করেছি। বাদী বিবাদীর উভয় পক্ষের কথা শুনেছি। এখনও অভিযোগটির বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।











