
মো: আশরাফ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ: দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী দাস চয়ন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যৌথ উদ্যোগে বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিন প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তার কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। আবেগঘন এই আয়োজনে উপস্থিত অনেকের চোখেই জল নেমে আসে।
বিদায়ী বক্তব্যে সব্যসাচী দাস চয়ন বলেন, এই বিদ্যালয়েই আমার পাঁচ বছরের ছাত্রজীবন কেটেছে। এরপর প্রায় ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছি। শিক্ষকতা জীবনে যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বিদায়ী অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষকও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিবেশ রঞ্জন দাসের সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার। বিদায়ী প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী দাস চয়নের পক্ষে বক্তব্য দেন তাঁর ছোট ভাই, দিরাই ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সন্দীপন কুমার দাস।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাহমুদুর হাসান অলেক, সিনিয়র শিক্ষক মো. হারুন-অর-রশীদ চৌধুরী, বজ্রবল্লভ দাস, মো. আব্দুর নুর, রওশন আরা খাতুন, কৃপেশ রঞ্জন রায়, মো. আব্দুস সালাম, মনিকা রায়সহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য সব্যসাচী দাস চয়ন ১৯৮৭ সালের ৭ নভেম্বর দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালে তিনি দুই দফায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ৪ আগস্ট প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা প্রায় ১৪ বছর ১০ মাস দায়িত্ব পালন করেন। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে তাঁর কর্মজীবনের সময়কাল ৩৮ বছর ৮ মাস ২৩ দিন।











