
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউড’র এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের বাইশমারার এলাকার কলেজ থেকে তাদের আটক করা হয়। জব্দ করা হয় তাদের ব্যবহৃত দেশীয় একটি অস্ত্র (পিঙ্গার রিং)। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থী হলেন আবদুল্লাহ আল মারুফ। অভিযুক্তরা হলেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক মিরাজ হোসেন, সদস্য রুবেল হোসেন ও নাইম হোসেন।
সাধারণ শিক্ষার্থী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকায় মারা যায় লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিকের ছাত্র মাহমুদুল হাসান রিজবী। কলেজ কর্তৃপক্ষ আজ তাঁর গায়েবানা জানাযার নামাজ ও আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দোয়া অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বে ভয়ভীতি দেখাতে ও দোয়া অনুষ্ঠান পণ্ড করতে মিরাজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মী মারুফকে মারধর করে।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিক পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে আটক করে শিক্ষকদের কাছে ধরিয়ে দেয়। এসময় মিরাজের কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র (পিঙ্গার রিং) উদ্ধার করে শিক্ষকরা। ঘটনার পরবর্তী কলেজ থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
আরও জানা গেছে, বিগত দিনে পলিটেকনিক ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর, নির্যাতন ও শিবির ট্যাগ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা আদায় করতেন। তবে অন্য জেলার শিক্ষার্থী হলে সেই নির্যাতন আরো বেশি হতো। এছাড়া বিভিন্ন অনৈতিক দাবি আদায়ে শিক্ষকদের উপর চাপ প্রয়োগ করতেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেন, ঢাকায় নিহত হওয়া বড় ভাইয়ের (রিজভী) দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে ক্যাম্পাসে আসি। ক্যাম্পাসে আসার পর মিরাজসহ অন্যান্যরা আমাদের মারধর করে। এছাড়াও গালমন্দসহ হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আমি কলেজের অন্যান্য বড় ভাইদের বিষয়টি জানিয়েছি।
এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, সিভিল ডিপার্টমেন্টের একজন শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা ওই শিক্ষার্থীদের আটক করে নিয়ে যায়।











