বুধবার, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব: পুরনো সহযোগীরাই ধরিয়ে দিয়েছেন বেনজীরকে

যায়যায়কাল ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে তার একসময়ের সহযোগীরাই ধরিয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি।

সূত্রটি বলছে, বেনজীরের সঙ্গে তার সহযোগীদের কারও কারও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। দ্বন্দ্বের কারণ ব্যবসা ও লেনদেন। খবর প্রথম আলোর।

দুবাইয়ের ওই সূত্রটি আরও বলছে, একটি বিপণিবিতান বা শপিং মল থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পেছনে সক্রিয় ব্যক্তিরা দুবাই পুলিশকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও বেনজীরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ব্যবহার করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ১২ জুন দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন। দেশটির সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ খবর দেন। তিনি বলেন, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে।

দুর্নীতির অনুসন্ধানের মুখে ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবার দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর আহমেদ। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। দুবাইয়ের সূত্রটি বলছে, শহরটিতে বেনজীরের আবাসন খাত ও সোনার ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে।

সূত্রটি আরও বলছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আসেন। এ সুযোগে তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকা ব্যক্তিরা সক্রিয় হন এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের বিষয়টিকে সামনে রেখে দুবাই পুলিশের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করাতে সক্ষম হন।

বেনজীর আহমেদ পুলিশে থাকার সময়ই দুবাইয়ের আবাসন ও সোনার ব্যবসায় ‘পাচার করা টাকা’ লগ্নি করেন বলে দাবি করেছে ওই সূত্র।

সূত্রটি আরও বলেছে, দুবাইয়ে পাচার করা টাকা বিনিয়োগ করা সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অথবা সেখানে আগে থেকে বিনিয়োগ আছে, এমন বাংলাদেশিদের সহযোগিতার দরকার হয়। হতে পারে, বেনজীর যাদের সহযোগিতা নিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গেই তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

বেনজীর আহমেদকে কোথা থেকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুবাই পুলিশ এবং বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুবাই পুলিশকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সোমবার ই-মেইল করা হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের খবরটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে। আরব নিউজও এ খবর এএফপির বরাতে প্রকাশ করে।

এদিকে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে ‘রেড নোটিশের’ তালিকায় এখন ৫৯ বাংলাদেশির নাম আছে। তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডিত ও নানা মামলার পলাতক আসামিরা আছেন। রেড নোটিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে আসামিদের ফিরিয়ে আনার নজির খুব বেশি নয়।

বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার রাতে বলেন, শুধু রেড নোটিশের কারণে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা তিনি মনে করেন না। তারও ধারণা, এর নেপথ্যে কেউ আছে।

অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্রে

এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার একটি অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, অনুরোধপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার তথ্যপ্রমাণসহ একটি অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। পরে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (২০১০-১৫) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকের (২০১৫-২০) দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তাঁকে আইজিপি করা হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন।

বেনজীর আহমেদের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব ও এর সাত সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নাম ছিল। তখন তিনি আইজিপি ছিলেন। ২০২২ সালে অবসর নেন বেনজীর। তখন তাকে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ