বুধবার, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ,২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
Mujib

/

এর সর্বশেষ সংবাদ

আমরা পুরুষ বাউলদের সংগ্রামটাই শুধু দেখি: বাউল আলেয়া বেগম

‘বাউল মাতা’ হিসেবে পরিচিত লোকসংগীত শিল্পী আলেয়া বেগমের রয়েছে দীর্ঘ ৫০ বছরের সংগীত জীবন। বিচ্ছেদ, পালাগান, জারিগান ও আধ্যাত্মিক গানের জন্য বিখ্যাত এই শিল্পী লিখেছেন ১ হাজারের বেশি গান। ‘গুণিন’ এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রেও তিনি গেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি মূলত তার আশেপাশের মানুষজন ও এলাকাবাসীদের মধ্যেই পরিচিত ছিলেন। গত বছর কোক স্টুডিও বাংলা’র ‘কথা কইয়ো না’ গানে তার হূদয়স্পর্শী পারফরম্যান্স তাকে মূলধারার মিডিয়ার নজরে নিয়ে আসে। আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা শুধু পুরুষ বাউলদের সংগ্রামটাই দেখি বেশি। নারী বাউলদের কষ্ট আরো কয়েকগুন। আমাদের খবর নেবার মানুষ কম।’ তবে মুখে মুখে আক্ষেপ হলেও গানটাই তার চির আনন্দের সঙ্গী।

কোক স্টুডিওর গাওয়া গানটি হিট হবার পরই যেন হঠাত্ই সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই স্থানীয় শিল্পী রাতারাতি পরিণত হন দেশের সবার প্রিয় শিল্পীতে। গানটির সাফল্য শুধু আলেয়া বেগমকেই নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করিয়ে দেয়নি, বরং বাংলাদেশি লোকসংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকেও তুলে ধরেছে।

একইভাবে, সিলেটের লোকসংগীত শিল্পী হামিদা বানু। দীর্ঘদিন ধরে হাসন রাজার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হামিদা বানু পেশাদার শিল্পী হিসেবে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতাই ছিল না। হাসন রাজা’র গানের সঙ্গে তার রয়েছে গভীর সংযোগ। কোক স্টুডিও বাংলা’র দ্বিতীয় সিজনে ‘দিলারাম’ গান দিয়ে তিনি প্রথমবার মঞ্চে ওঠেন। তার শ্রুতিমধুর কণ্ঠের গান সবার হূদয় ছুঁয়ে যায়। আলেয়া বেগমের মতোই হামিদা বানুও তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

আলেয়া বেগম ও হামিদা বানু’র মতোই দর্শক-শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন আরেক গ্রামীণ প্রতিভা জহুরা বাউল। ‘বনবিবি’ গানে তার শক্তিশালী ও সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তিনি এখন নারী শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা। প্রামের নারীদের উপর তার প্রভাবের বিষয়টি ‘বনবিবি’ গানে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। এই গানে তার নেতৃত্বে বাউল নারীদের দল মানুষকে আকৃষ্ট করেছে।

এদিকে ‘মেঘদল’ এর মতো জনপ্রিয় ব্যান্ডের সঙ্গে একই মঞ্চে গান করলেও তার শক্তিশালী পরিবেশনা বিশেষভাবে দর্শক-শ্রোতার মন জয় করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এ বছরের থিম ‘ইনস্পায়ার ইনক্লুশন’, যার অর্থ হচ্ছে নারীদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তারা সমাজে নিজের জায়গা সম্পর্কে জানতে পারে। নারী দিবসের এবারের থিমের সাথে বিগত দিনের কর্মযজ্ঞের পুরো সাদৃশ্য রয়েছে কোক স্টুডিও বাংলার কার্যক্রমেরও।

তারা মনে করে, কোক স্টুডিও বাংলা’র মতো প্লাটফর্মের মাধ্যমে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দূরত্ব ঘুচে যাচ্ছে। সে সঙ্গে আলেয়া, হামিদা ও জহুরা’র মতো নারীরা নিজেদের প্রতিভা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি এমন অন্তর্ভুক্তি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে। প্রতিভা প্রকাশের জন্য শিল্পীর পারিপার্শ্বিক অবস্থা কিংবা পূর্ব পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিভা নিজে থেকেই বিকাশের পথ খুঁজে নেয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on tumblr
Tumblr
Share on telegram
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *