
কাজল দাস, রায়গঞ্জ: সনাতন রীতিনীতি অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের, রায়গঞ্জের, আটঘরিয়া, জমিদার পাড়ায় নবমী তিথিতে দেবী দুর্গার নবমীবিহিত পূজা করা হয়।
এক সময় আটঘড়িয়ার জমিদারেরা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধির সময় বিশেষভাবে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠান করত। সন্ধি পূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করে দেবীর পূজা করা হত। সে সময় দেবী দুর্গাকে বিভিন্ন ধরনের উপকরণে ভোগ নিবেদন করে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করতো তারা।
এরপর শুরু হয় দশমী পূজা দশমী তিথিতে পূজাবিধি অনুসারে আটঘড়িয়ার জমিদারেরা দেবী দুর্গার দশমীবিহিত পূজা করত। দশমীর দিনে হয় দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন । পূজার দশমীকে বলা হয় বিজয়া দশমী। সনাতন রীতিনীতি অনুযায়ী তারা মনে করত দেবী দুর্গা যেন ঘরের মেয়ে । তিনি শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসেন । চারদিন থেকে তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে কৈলাস ভবনে যাত্রা করেন। সেই নিয়ম মেনেই দুর্গাপ্রতিমা আটঘড়িয়ার জমিদারদের নিজস্ব পুকুরে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটানো হতো।
জমিদারদের বিজয়া দশমীর সেই আনুষ্ঠানিকতা ও আচার মেনে আটঘড়িয়ার জমিদার পাড়ার বাসিন্দারা বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ও আচার পালন করে ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে।
এ সময় দেবীকে সিঁদুর পরানো, মিষ্টি মুখ করানো এবং বিদায় সম্ভাষণ জানানো সহ সধবা নারীরা একে অন্যের কপালে সিঁদুর পরান ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।পরস্পর আলিঙ্গন করে এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে একে অপরকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধকরণ করে।
এছাড়াও আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে মিছিল করে ঢাক, কাঁসর, সানাই ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দেবীর প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। বাড়িতে ফিরে ছেলেমেয়ে ও পাড়া-পড়শিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ধান- দূর্বা দিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়, আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে নতুন জামা-কাপড় বা অর্থ ও উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়াও আজ বিসর্জনের দিন বা পরের দিন স্থানীয়ভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে এলাকাবাসীর মুখ থেকে জানা যায়।











