
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সবকটিতেই পাসের হার কমেছে। এর মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং বরিশালে সর্বনিম্ন ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। গত বছর এ হার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ থাকলেও এবার ১৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে।
আজ শনিবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডেও পাসের হার কমেছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। এবার যা ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। গত বছর এ ব্যবধান ছিল ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ।
জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। নয় বোর্ডে মোট ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৩ হাজার ২১৯।
এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ১৯ হাজার ৭২১ মেয়ে ও ২০ হাজার ৩৬৩ ছেলে শিক্ষার্থী। গত বছর ৩৭ হাজার ৪৪ মেয়ে ও ৩২ হাজার ৫৩ ছেলে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা গত বছরের ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশের চেয়ে কম। অন্যদিকে, দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ৫০ দশমিক ২০ শতাংশের চেয়ে কম। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে, গত বছর যা ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
সিলেট বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশের তুলনায় কম।
সমমানের দুটি বোর্ডের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবারের পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশের চেয়ে কম।
১১টি বোর্ড মিলিয়ে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত বছরের ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশের চেয়ে কম।
এ বছর প্রথমবারের মতো নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রতিটি বোর্ডের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হতো।











