
মিনহাজ আলী, শিবগঞ্জ (বগুড়া): উত্তরাঞ্চলে আলু চাষের আতুড়ঘর হিসেবে খ্যাত বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা। এই উপজেলায় বিভিন্ন মসলা জাতীয় ফসল থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজি চাষ হয়। হঠাৎ করেই এবার আলুর ভরা মৌসুমে এখানে আলুক্ষেতে ‘উইল্ড’ রোগ দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলুচাষীরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে আঠারো হাজার চারশত হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে উনিশ হাজার চারশত হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ছয়শত বিশ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে গড় ফলন হয়েছে ষোল মেট্রিকটন।
গত বছর আলু উৎপাদন ও বিক্রি করে লাভ বেশি হওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা এবার অধিক জমিতে আলুর চাষ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ‘উইল্ড’ রোগ দেখা দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মেদিনীপাড়া এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানান, আমি চার বিঘা জমিতে স্টিক জাতের আলুর চাষ করেছি। এই চার বিঘা জমির মাঝে মাঝে আলুরগাছ নুয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে। এমন রোগ এর আগে কখনো আমরা আলুরক্ষেতে দেখিনি। দিন দিন বাড়ছে এ রোগের প্রকোপ। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
একই গ্রামের কৃষক হারুন জানান, ৩০দিন আগে আলু লাগাইছি। আলুর গাছগুলা দেখে মনে হচ্ছিলো ফলন ভালো হবে। কিন্তু আলুরগাছ মাঝে মাঝে নুয়ে পড়েছে। ঔষধ দিয়েও কাজ হচ্ছেনা। আলুর বীজে কোন সমস্যা হইছে বলে আমি মনে করিনা, বিএডিসি’র পটাশের সমস্যার কারণে এমনটা হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেদিনীপুর গ্রামের আলুচাষি আরিফুল ইসলাম জমিতে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করছেন। কি কারণে আলুরগাছ মারা যাচ্ছে তা সে জানেনা। কিন্তু আলুক্ষেতে সে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করছে। তিনি আরো বলেন, এ রোগের কারণে আলুগাছ মরে যাচ্ছে। এমনিতেই এবার আলুর দাম কম। কি হবে আমাদের ভাগ্যে বুঝতে পারছিনা।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট একটি মাটিবাহিত রোগ। এ রোগের জীবাণু শিকড়ের ক্ষতস্থান দিয়ে গাছে প্রবেশ করে এবং পানি পরিবহন নালীর মধ্যে বংশ বিস্তার করে নালী পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে পাতা ও গাছ সবুজ অবস্থায় ঢলে পড়ে। এভাবে কয়েক দিনের মধ্যে সবুজ অবস্থাতেই গাছটি মারা যায়। এ রোগাক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র তুলে ধ্বংস করতে হবে। আলুচাষিদের এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।











