
রহিদুর রহমান মিলন, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প।
জানা যায়, আদিকাল হতে উপজেলার কালীতলায় ও হাটশেরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ছিল পালপাড়া নামে পরিচিত। যমুনা নদীর ভাঙ্গনে পাল পাড়াগুলো অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন পালপাড়ায় ৭/৮ ঘর পাল আছে, যারা তাদের পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল বিক্রি করে মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলতে গিয়ে অতুল চন্দ্র পাল( ৬৫) বলেন, আমরা আগে যমুনা নদীর পার থেকে মাটি তুলে হাড়ি পাতিল থেকে শুরু করে ছোট শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবন-যাপন করতাম। আমাদের এখন চরম দুর্দিন চলছে। এখন শেরপুর উপজেলা হইতে ভটভটি ও মিনি ট্রাকে করে মাটি কিনে এনে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।
তিনি আরো বলেন, এক ভটভটি মাটি কিনে আনতে রাস্তায় ২০০ টাকা বিট দিতে হয়। এতে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হয়।
কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন অনিল চন্দ্র পাল( ৫০)। তিনি জানান, সারিয়াকান্দিতে পালদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নাই। ভোটের সময় অনেক নেতা আমাদের সাহায্যের কথা বললেও ভোটের পরে আর পালদের খোঁজ নেয় না কেউ।
তিনি বলেন, পালদের বয়স্ক ভাতা থেকে শুরু করে কোনো ভাতা কার্ড দেওয়া হয় না। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তারা সরকারি সাহায্য পেলে উপজেলার মৃত প্রায় মৃৎ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন।











