
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: একসময় চরমপন্থী ও সর্বহারাদের সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা।
সাধারণ মানুষের দিন কাটত চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায়। তবে সেই অন্ধকার ও রক্তাক্ত অতীত পেছনে ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে অস্ত্র ছেড়ে আলোর পথে ফিরেছেন এই তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সর্বহারা সদস্য।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২ এর সদর দপ্তরে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন: চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ-২০২৬’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার করেন এবং তাঁদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান।
এসআরবি-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তুসহ এসআরবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা মো. মাজেদ আলী মুন্সী তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘অন্ধকারের ভুল পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুবই ভালো লাগছে। আমরা এখন শান্তিতে বাঁচতে চাই এবং সমাজের মূল ধারায় অবদান রাখতে চাই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আত্মসমর্পণকারী এই সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিরাজমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুসংহত হবে











