
এ এম আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর: শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা।
তিনি ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি সমাবেশে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা একসঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন।
ভিডিও বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, তিনি সবসময় নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কখনো সংসদ সদস্য নির্বাচনে আগ্রহী ছিলেন না। দলীয় প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্বের কারণেই তিনি নির্বাচনের মাঠে নামতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন।
তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে তিনি ময়মনসিংহে যান। সেখানে তাকে সম্মান জানানো হয় এবং দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারেক রহমান তাকে দলীয় সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্ব মেনে চলার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার নির্দেশ দেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাদশা আরও বলেন, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ভোটারদের কাছে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং দলীয় ঐক্যের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময় তিনি সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম বাদশা পুনরায় জানান, দলীয় ঐক্য, ভোট বিভাজন রোধ এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের স্বার্থ ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে এবং আগামীর রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, তার সরে দাঁড়ানোর ফলে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে এবং নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।











